সুদূর নরওয়েতে পাড়ি জমানোর অপেক্ষায় বর্ধমানে তৈরি ফাইবারের লক্ষ্মী সরস্বতী
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান: বর্ধমান শহরে তৈরি লক্ষ্মী সরস্বতীর প্রতিমা এবার পাড়ি দেবে সূদুর নরওয়েতে। প্রতিমাশিল্পীর নাম সিদ্ধার্থ পাল। অবশ্য এই প্রথমবার নয়, এর আগেও তাঁর তৈরি একাধিক মূর্তি পাড়ি দিয়েছে বিদেশে। কলকাতা এবং জেলার বিভিন্ন মণ্ডপেও
শেষ আপডেট: 24 September 2020 07:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান: বর্ধমান শহরে তৈরি লক্ষ্মী সরস্বতীর প্রতিমা এবার পাড়ি দেবে সূদুর নরওয়েতে। প্রতিমাশিল্পীর নাম সিদ্ধার্থ পাল। অবশ্য এই প্রথমবার নয়, এর আগেও তাঁর তৈরি একাধিক মূর্তি পাড়ি দিয়েছে বিদেশে। কলকাতা এবং জেলার বিভিন্ন মণ্ডপেও প্রশংসা কুড়িয়েছে তাঁর হাতের কাজ।
বর্ধমান শহরের বড়নীলপুরের বাসিন্দা স্থাপত্য ভাস্কর্য শিল্পী সিদ্ধার্থ পাল। প্রতি বছরই কোলকাতার বিভিন্ন নামি পুজো কমিটির থেকে ঠাকুর তৈরির বরাত পেয়ে থাকেন তিনি। বিশ্ববাংলা সহ একাধিক পুরস্কারে পুরস্কৃতও হয়েছেন বহুবার।
করোনা আবহ এবার ভাগ বসিয়েছে পুজোর আনন্দে। অন্যান্য বছরের মতো ঠাকুরের বরাত পাননি মৃৎশিল্পীরা। বাকিদের মতো লোকসানের মুখ দেখেছেন সিদ্ধার্থবাবুও। কিছুটা মুষড়ে পড়েছিলেন, কিন্তু তার মধ্যেই এল এই সুখবর।
এদিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সিদ্ধার্থ পাল জানান, মাসখানেক আগে বড়বাজারে নিজের স্থাপত্যের কাজকর্মের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় রঙ কিনতে গিয়েছিলেন তিনি। কথায় কথায় জানা যায় দোকানের মালিকের এক আত্মীয় থাকেন নরওয়েতে। তাঁর বাড়িতে রাখার জন্য প্রয়োজন লক্ষ্মী আর সরস্বতীর প্রতিমা। সিদ্ধার্থবাবুর কাজকর্মের সঙ্গে সম্যকভাবে পরিচিতি ছিল ওই দোকান মালিকের। তিনিই মূর্তি তৈরির বরাত দেন সিদ্ধার্থবাবুকে। তারপর শুরু হয় ফাইবার দিয়ে লক্ষ্মী সরস্বতী বানানোর কাজ।
ইতিমধ্যেই মাঝারি মাপের বেশ কয়েকটি প্রতিমা বাক্সবন্দী হয়ে উড়োজাহাজে করে বিদেশে পাড়ি জমানোর অপেক্ষায়। হোয়াটসঅ্যাপেই প্রতিমার মডেল পছন্দ করে দেন ক্রেতা। পছন্দের এক মাসের মধ্যেই ফাইবার দিয়ে তৈরি হয়ে যায় দেবী মূর্তি।

মৃৎশিল্পী সিদ্ধার্থ পাল বলেন, "আমার কুম্ভকার পরিবারে জন্ম। ছোট থেকেই চোখের সামনে মূর্তি তৈরি হতে দেখেছি। তাই একটা অন্যরকম টান ছিল এই কাজে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে পেটের তাগিদে নানা কাজ করেছি। প্রথম জীবনে সাইনবোর্ড লেখা সহ অন্যান্য কিছু কাজও করতে হয়। কিন্তু মন বসেনি ওসব কাজে। তাই শেষমেশ হাতের কাজেই মননিবেশ করি। বর্ধমানের প্রখ্যাত স্থপতি শিল্পী হরিহর দে'র কাছেই মূর্তি তৈরির প্রাথমিক তালিম নিই।"
হরিহর দে বা পূর্ণেন্দু দে'র মতো শিল্পীদের সঙ্গে কলকাতায় বিভিন্ন বড় মণ্ডপে মূর্তি বানানোর কাজ করেন সিদ্ধার্থবাবু। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে তাঁর নিজস্ব পরিচিতিও। বর্ধমান ও কলকাতার একাধিক ক্লাব থেকে আসতে শুরু করে পুজোর বরাত। এরপরেই শহরের শাঁখারীপুকুর এলাকায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নিজের সংস্থা ‘মাটি মায়া’। এখন এখানেই চলে ছাত্রছাত্রীদের আঁকা শেখানো থেকে স্থাপত্য ভাস্কর্য তৈরির কাজ। এই এক চালার ঘর থেকেই এবার বিদেশের পথে পাড়ি দেবে দু'আড়াই ফুটের লক্ষ্মী সরস্বতীর ফাইবার প্রতিমা।
যদিও এই প্রথম নয়, বছর চারেক আগে তাঁর তৈরি থিম দশাবতার পাড়ি জমায় ওয়াশিংটনে। তাঁর শিল্প সৃষ্টি ছড়িয়ে রয়েছে সিকিম ও মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকাতেও। বর্ধমান, বড়শুলের বিগবাজেটের পুজোগুলির অন্যতম ভরসা এখন সিদ্ধার্থবাবু। সিদ্ধার্থবাবু বলেন, "ছেলেকেও এই কাজে উৎসাহ দিচ্ছি।" আগামীদিনে বিদেশের মাটিতে এই শিল্পের আরও বাণিজ্যিক প্রসার ঘটানোর ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।