দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাদম্বরীকে মরে প্রমাণ করতে হয়েছিল, তিনি মরেননি। আর কার্তিকবাবুকে আদালতে গিয়ে প্রমাণ করতে হল, তিনি বেঁচে আছেন।
সম্পত্তির লোভে জীবিত বাবাকে 'মৃত' প্রমাণ করার চেষ্টা করল ছেলেরা! বাবাও কম যান না। প্রতারণার পাল্টা অভিযোগ জানিয়ে নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে আদালতের দ্বারস্থ হলেন তিনি। মালদহের এই ঘটনায় বিস্মিত সকলে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, বাবার নামে থাকা সম্পত্তি দখল করতে, জীবিত বাবার নামে 'ডেথ সার্টিফিকেট' বার করেছে দুই ছেলে। তাদের বাবা, মালদা আদালতে গাজোল এর বাসিন্দা কার্তিক মণ্ডলের আইনজীবী আদালতে অভিযোগ করেছেন, তাঁর মক্কেলের দুই ছেলে, তাঁর মক্কেলের নামে থাকা সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্যকে বুঝিয়ে তাঁর নামে ডেথ সার্টিফিকেট বার করে নিয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই সার্টিফিকেট দাখিল করে তারা বাবার নামে থাকা বেশ কিছু সম্পত্তি বিক্রিও করে দিয়েছে!
কার্তিকবাবুর অভিযোগ, তিনি এ বিষয়ে প্রাথমিক ভাবে গাজোল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও, পুলিশ এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তিনি মালদা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে। আদালত ইতিমধ্যেই গাজোল থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
এই অভিযোগ প্রসঙ্গে স্থানীয় বিধায়ক দিপালী বিশ্বাস বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। ঘটনার সত্যতা থাকলে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশকে কড়া ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করব।"
মালদার গাজোল থানার আলমপুর ঘোষপাড়ার বাসিন্দা কার্তিক মণ্ডল পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর তিন বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছোট বোন মারা গিয়েছেন বছর খানেক আগে। বর্তমানে কার্তিকবাবুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে বাড়িতে থাকেন। তবে ব্যবসার কাজে বেশির ভাগ সময়ে কার্তিকবাবুকে হরিদ্বারে থাকতে হয়। মালদা জেলা আদালতে তিনি লিখিত ভাবে জানিয়েছেন, তাঁর মা পারুল মণ্ডল মারা যাওয়ার আগে, তিনি সমস্ত পৈত্রিক সম্পত্তি কার্তিকবাবুর নামে করে যান। সেই হিসেবে ৯০ শতক রায়তি জমি এবং ৬৩ শতক পাট্টা করা জমির মালিক ছিলেন কার্তিকবাবু। সম্পত্তি ভাগ করার সময়ে, তা থেকে বোনেদের কিছু জমি দিতে চান কার্তিক বাবু, কিন্তু তাতে সায় ছিল না ছেলেদের।

স্থানীয় সূত্রের খবর, কিছু দিন আগেই ব্যবসার কাজে তিনি হরিদ্বারে ছিলেন। এই সুযোগে তাঁর ছেলেরা পাণ্ডুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন তৃণমূল প্রধান ও গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যের কাছ থেকে তাঁর ডেথ সার্টিফিকেট বার করেন। পরে সেই সার্টিফিকেট দেখিয়ে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর থেকে বাবার নামে থাকা গোটা জায়গাটি ছেলেরা নিজেদের নামে করে নেয় বলে অভিযোগ।
পরে এই জমি থেকে ৬৩ শতক জমি রেখে, বাকি সমস্ত জমি তারা বিক্রি করে দিয়েছে বলেও দাবি কার্তিকবাবুর। ২০১৭ সালের ১৪ ই জুন সমস্ত ঘটনার কথা কার্তিক বাবু লিখিত ভাবে গাজোল থানায় জানিয়েছিলেন। জানানো হয়েছিল গাজোল ব্লক অফিস ও মালদহ জেলাশাসককেও। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি!
তাই বাধ্য হয়েই কার্তিকবাবু আজ নিজেকে 'জীবিত' প্রমাণ করতে আদালতের দ্বারস্থ।