দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফরাক্কা ব্রিজের নির্মীয়মাণ অংশের 'গার্ডার' ভেঙে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটল রবিবার ভর সন্ধেয়। গুরুতর আহত হয়েছেন সাত শ্রমিক। একজনের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। আর এক জনের অবস্থাও গুরুতর। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীদের বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। আহতদের মালদহ মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে। আরও কেউ চাপা পড়ে আছে কিনা, খতিয়ে দেখছেন উদ্ধারকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেশ কয়েক দিন ধরেই ফরাক্কা ব্রিজে কাজ চলছিল। রবিবার সন্ধেবেলাতেও ওই ব্রিজে কাজ করছিলেন বেশ কয়েক জন শ্রমিক। আচমকাই মালদা জেলার বৈষ্ণবনগর থানা এলাকায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ ওই ব্রিজের একটি গার্ডার। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান শ্রমিকরা।
আশপাশের মানুষজন সঙ্গে সঙ্গে হাত লাগান স্তূপের নীচে চাপা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করতে। কিছুক্ষণের মধ্যেই খবর পেয়ে এসে পৌঁছয় পুলিশ। প্রথম পর্যায়ে মোট সাত জন শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। রক্তাক্ত ও জখম অবস্থায় তাঁদের মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে এক জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বাঁচার সম্ভাবনা কার্যত ক্ষীণ। অন্য আৎ এক জনেরও অবস্থা বেশ খারাপ।
ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও। শীতের রাতে, অন্ধকারে উদ্ধারকাজ চালাতে বেশ অসুবিধায় পড়ছেন তাঁরা। তবু সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে, ধ্বংসস্তূপের নীচে আর কেউ আটকে রয়েছেন কিনা তা ভাল করে নিশ্চিত করার।
এই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, তৈরির সময়েই কীভাবে ব্রিজের গার্ডার ভেঙে পড়ল! কাজ শুরুর এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই ব্যারেজ ভেঙে এই ঘটনা ঘটেছে। সরকারি সূত্রের খবর, দক্ষিণ ভারতের একটি সংস্থাকে এই ব্রিজ নির্মাণের বরাদ দেওয়া হয়েছিল। তাদের তরফে কোনও গাফিলতি ছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখা হবে। নির্মাণের যে কাঁচামাল সরবরাহ হচ্ছিল, সেখানেও কোনও গলদ থেকে গিয়েছিল কিনা খতিয়ে দেখবে পুলিশ।