
শেষ আপডেট: 1 May 2019 18:30
আবহাওয়া দফতর থেকে প্রকাশিত শেষ বুলেটিন অনুযায়ী এই মুহূর্তে 'ফণী'র অবস্থান দিঘা থেকে ৬১৫ কিমি এবং পুরী থেকে মাত্র ৩৬০ কিমি দক্ষিণ–পশ্চিমে। পূর্বাভাষ অনুযায়ী উপকূলে 'ফণী'র আঘাত করার কথা আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার বিকেলের আশেপাশে। দক্ষিণবঙ্গে সেই ঝড় এসে ঝাপটা মারবে আগামীকাল গভীর রাতের দিকে। ওড়িশার উপকূলে প্রথম ধাক্কা দেওয়ার সময় ঘূর্ণি ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৭০ থেকে ১৮০ কিমি কখনও তা বেড়ে ২০০ কিমি হলেও দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করার সময় ঝড়ের দাপট কিছুটা কমে যাবে। এই সময় গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১০০ কিমি যা কোনও কোনও সময়ে ১১৫ কিমি পর্যন্ত হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের পরিভাষা অনুযায়ী এই গতিবেগের ঘূর্ণি ঝড়কে 'তীব্র ঘূর্ণি ঝড়' (severe cyclonic storm) বলা হয়। ধীরে ধীরে গতি কমিয়ে বেশ কিছুটা দুর্বল হয়ে সাধারণ ঘূর্ণি ঝড়ে পরিণত হয়ে 'ফণী' শনিবার রাতের দিকে বাংলাদেশের দিকে চলে যাবে।
উপকূলবর্তী নয় এমন জেলাগুলিতে ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিমি। একইসঙ্গে মাঝে মধ্যে ঘণ্টায় ৮০ কিমি বেগের ঝাপটাও থাকবে। ঝড়ের এই গতিবেগে স্বাভাবিক ভাবেই কিছু ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রশাসনের তরফে। যার মধ্যে রয়েছে, গাছ ও লাইটপোস্ট মাটি থেকে উপড়ে যাওয়া বা বেঁকে যাওয়া, ট্রেন ও বিদ্যুতের ওভারহেড তার ছিঁড়ে যাওয়া, উড়ন্ত বস্তুর আঘাত লাগা এবং প্রবল বর্ষণে বিভিন্ন জায়গায় জল জমে যাওয়া। যদিও উপকূলবর্তী এলাকায় ঝড়ের তীব্রতা অনেক বেশি হওয়ায় মাটির কাঁচা বাড়ি, রাস্তাঘাট ও খেতের ফসলও রয়েছে ক্ষতির তালিকায়। সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতা স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই বেশি হওয়ায় নীচু জমিতে সমুদ্রের জল ঢুকে জমির উর্বরতার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
আজ সন্ধে থেকেই রাজ্যের উপকূলবর্তী অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বইতে শুরু করবে যার গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিমি। কখনও তা বেড়ে গিয়ে ঘণ্টায় ৬০ কিমি পর্যন্ত পৌঁছবে। এই গতিবেগই ক্রমান্বয়ে বাড়তে বাড়তে শুক্রবার গভীর রাতের দিকে তীব্র ঘূর্ণি ঝড়ের আকার নেবে।
খুব প্রয়োজন না থাকলে এই সময় পথেঘাটে না থাকাই ভালো বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে। হাইওয়ে বা অন্যান্য রাস্তাতেও গাড়ি না চালানো নিরাপদ বলে জানানো হয়েছে আবহাওযা দফতর থেকে কারণ ঝড় ও বৃষ্টির সঙ্গে দৃ্শ্যমানতার সমস্যাও তৈরি হবে।