দ্য ওয়াল ব্যুরো: "দু’বেলা খাবার জুটছে না। গত কয়েকদিন ধরে খেতেই পাইনি। চলাফেরাও করতে পারি না," বলিরেখা মাখা শুকনো মুখে মৃত্যুভয় ফুটে উঠল। প্রায় অস্থিসার তিনটে মানুষ একমুঠো খাবার জন্য হাহাকার করছেন। অন্ধ্রপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশে অনাহারে মৃত্যুর ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল দেশকে। এ বার খোদ বাংলার বুকেই অনাহারে মরতে বসেছেন একই পরিবারের তিনজন।
আসানসোল পুরনিগমের ৮৫ নম্বর ওয়ার্ডের মহিশীলা কলোনি। জীর্ণ বাড়িটার একটা ঘরে জড়োসড়ো হয়ে বসে দীপক ভট্টাচার্য (৬৮), তাঁর দিদি মিনতি (৭০) এবং তাঁদের ভাইজি অনিতা (৩৫)। দীপকবাবু জানিয়েছেন, তিনি বিয়ে করেননি। দিদি মিনতিও নয়। আগে দাদা-বৌদির কাছেই আশ্রিত থাকতেন তাঁরা। এই মহিশীলা কলোনির বাড়িতেই। অনিতা তাঁদের একমাত্র ভাইজি। দাদা-বৌদি বেঁচে থাকার সময় খাবারের অভাব হয়নি। নিজে ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না, তাই বাড়িতে বসেই টিউশন করতেন দীপকবাবু। দাদা-বৌদির মৃত্যুর পরেই আকাশ ভেঙে পড়ে গোটা পরিবারের মাথায়। উপার্জন বন্ধ তো হয়ই, সঞ্চয়ের ভাঁড়ারেও টান পড়ে।
‘‘আমার বয়স হয়েছে। অসুস্থ। ছাত্র পড়াতে পারি না। কেউ পড়তে আসতেও চায় না। এখন খেতে পাচ্ছি না,’’ হাহাকার করে উঠলেন দীপক ভট্টাচার্য। জানালেন, অনিতা মানসিক ভারসাম্যহীন। জন্মের পর থেকেই তাঁর মানসিক স্থিতি ঠিক ছিল না। দিদি মিনতি চলাফেরা তো দূর, ঠিকমতো চোখে দেখতেও পাননা। পরিবারের তিনজনেই অথর্ব হয়ে পড়েছেন। ভরসা বলতে প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের দয়া। এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অনেকেই।
আরও পড়ুন: পেটে খাবার নেই, ধুঁকতে ধুঁকতে মারা গেল আটের শিশু, অন্ধ্রের পর দেশের লজ্জা মধ্যপ্রদেশ
লজ্জা ঢাকতে এখন গামছাই সম্বল, আর একটা গেঞ্জি, জানিয়েছেন দীপকবাবু। অনিতা কিছু প্রকাশ করতে পারে না। কিন্তু খিদে চেপে রাখার যন্ত্রণা তার মুখেও বড় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দীপকবাবু বলেছেন, ‘‘অনেকদিন না খেয়ে আছি। এরপর মৃত্যুই হবে আমাদের মুক্তির পথ।’’
স্থানীয় পুরসভার চেয়ারম্যান শিবদাস চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষেরই বসবাস তাঁর ওয়ার্ডে ৷ তাই সবার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা করা সম্ভব নয় ৷ তবে মহিশীলা কলোনির এই পরিবারকে যাতে অনাহারে থাকতে না হয়, সেই জন্য ব্যবস্থা নেবেন তিনি। চেয়ারম্যান বলেছেন, "বার্ধক্য ভাতা, সরকারি অন্যান্য ভাতার ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেটা দেখছি। মানুষগুলোকে তো আর মরতে দেওয়া যায় না!"
পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা...
https://www.four.suk.1wp.in/pujomagazine2019/%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%aa-%e0%a6%ad/