
শেষ আপডেট: 11 February 2023 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: হাইকোর্টের (High Court) নির্দেশে চাকরি গেল তৃণমূলের বুথ সভাপতি (TMC booth president) ও তাঁর ভাইয়ের। চাকরি ( job) হারিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়ল পরিবার। খোঁজ নিয়ে দেখার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে গেল তৃণমূল নেতৃত্ব।
এসএসসি গ্রুপ ডি পদে একই সঙ্গে চাকরি পেয়েছিলেন দু ভাই। চাকরি গেলও একসঙ্গে । এই দুই ভাইয়ের একজন আবার তৃনমূলের স্থানীয় বুথ সভাপতি। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য বাঁকুড়া সদর থানার পাতালখুরি গ্রামে।
ওই গ্রামের তৃণমূল বুথ সভাপতি আদেশ চ্যাটার্জী ও তাঁর ভাই উত্তম চ্যাটার্জী হাইকোর্টের নির্দেশে গ্রুপ ডির চাকরি হারালেন একই সঙ্গে। পরিবারের দাবি, একসঙ্গে দুই ভাইয়ের চাকরি যাওয়ায় বিপর্যয়ের মুখে তাঁরা। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, প্রভাব খাটিয়ে ও টাকা দিয়ে দুই ভাই চাকরি পেয়েছিলেন। কাজ হারিয়ে তাঁদের মুখ লুকিয়ে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে বলে দাবি তৃণমূলের।
হাইকোর্টের নির্দেশে এই রাজ্যে ১৯১১জন গ্রুপ ডি কর্মীর চাকরি গেছে। অভিযোগ, সেই তালিকায় রয়েছে বাঁকুড়া জেলার বহুজনের নাম। যারা জেলার বিভিন্ন স্কুলে গ্রুপ ডি কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই তালিকায় বাঁকুড়া জেলায় বহু নেতা নেত্রী ও তাদের পরিবারের লোকজনের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ।
ইতিমধ্যেই পাওয়া গিয়েছে বাঁকুড়া ১ নম্বর ব্লকের পাতালখুরি গ্রামের তৃণমূলের বুথ সভাপতি আদেশ চ্যাটার্জীর নাম। রয়েছে তার ভাই উত্তর চ্যাটার্জীর নাম ও। সূত্রের খবর, আদেশ চ্যাটার্জী বিকনা ক্ষিরোদ প্রসাদ উচ্চবিদ্যালয়ের গ্রুপ ডি কর্মী ছিলেন। অন্যদিকে উত্তম চ্যাটার্জী বাঁকুড়া হিন্দু হাইস্কুলে গ্রুপ ডি কর্মী ছিলেন। প্রভাব খাটিয়েই আদেশ ও তাঁর ভাই গ্রুপ ডির এই চাকরি পেয়েছে বলে অভিযোগ সামনে আসে। আদেশের সাথে তৃণমূলের জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের ভালো সম্পর্ক ছিল বলেও সুত্রের খবর। সেই যোগসূত্র কাজে লাগিয়ে কি নিজের ও ভাইয়ের গ্রুপ ডি চাকরি নিয়োগ পেয়েছিল তৃণমূল নেতা আদেশ এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে ঘোরাফেরা করছে।
শনিবার সকাল থেকে আদেশ ও উত্তমের খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্কুলেও দেখা যায়নি তাদের। বাড়িতেও পাওয়া যায়নি দুই ভাইকে। তাঁদের প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও তাঁদের অন্য এক ভাই উৎপল চ্যাটার্জি দাবি করেন পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পেয়েছিলেন তাঁর দুই দাদা। প্রভাব খাটানোর কোনও বিষয় নেই। দুজনের চাকরি যাওয়াতে পরিবার আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
বিজেপি নেতা বিকাশ ঘোষ বলেন, "টেটের ফাঁকা ওএমআর জমা দিয়েও ওই দুই ভাই টাকা ও রাজনৈতিক প্রভাবের জেরে ৪৩ নম্বর পেয়েছিলেন। নিজের চাকরি যারা রক্ষা করতে পারেন না তাঁরা আবার এলাকায় দিদির সুরক্ষা কবচ করে বেড়াচ্ছেন।" চাকরি যাওয়ার পর থেকে দুই ভাই বাড়িতে মুখ লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও কটাক্ষ বিজেপির।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি দিব্যেন্দু সিংহ মহাপাত্র বলেন, "হাইকোর্টের নির্দেশে কয়েকজনের চাকরি গেছে। কিন্তু সেই তালিকায় আমাদের দলের কেউ আছে কিনা তা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।"
আরামবাগের লোকালয়ে বুনো হাতি! বিষ্ণুপুর থেকে আনা হচ্ছে হুলাপার্টি