দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন সর্ষের মধ্যেই ভূত। ভুয়ো লাইসেন্স চক্রের হদিস করতে গিয়ে তাজ্জব পুলিশ। বেআইনি অস্ত্রের কারবার ও জাল লাইসেন্স চক্রের মাথা খোদ জেলাশাসকের দফতরের কর্মী। বৃহস্পতিবার বসিরহাট স্টেশন থেকে জেলাশাসক দফতরের ওই কর্মী শুভেন্দু মণ্ডলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বন্দুকের লাইসেন্স জাল করার অভিযোগে স্বরূপনগর থেকে এর আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল দু'জনকে। এ বার ধরা পড়ল বসিরহাট থেকে। পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে বসিরহাট সীমান্ত এলাকা সহ গোটা জেলা জুড়েই দাপাদাপি শুরু করেছিল এই চক্র। বেআইনি অস্ত্র পাচার, জাল লাইসেন্স তৈরিতে সক্রিয় ছিল এই চক্র। লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে জাল লাইসেন্সের কারবার চলতো। গোয়েন্দা সূত্রে এমন খবর পেয়ে তক্কে তক্কেই ছিল পুলিশ।
জেলাশাসকের দফতর থেকেই গোপন নথি পাচার হচ্ছে এমন খবরও ছিল পুলিশের কাছে। তদন্তে প্রথমেই উঠে আসে আর্মস সেকশনের কর্মী শুভেন্দুর নাম। তাঁকে মোটর ভেহিকলসে সরিয়ে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের কথায়, শুভেন্দুবাবুর অঙ্গুলি হেলনেই কাজ করতো ওই চক্র। বারাসতের অতিরিক্ত জেলাশাসকের (সাধারণ) দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ দিন সকাল ৮টা নাগাদ বসিরহাট স্টেশন থেকে ধরা পড়েন তিনি। জালিয়াতি, প্রতারণা, বেআইনি অস্ত্র ব্যবসা-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আজ শুভেন্দুবাবুকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে তুললে তাঁকে ১৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, বন্দুকের লাইসেন্স জাল করার অভিযোগে গত জানুয়ারির প্রথমে সপ্তাহে স্বরূপনগর থানার সীমান্ত লাগোয়া বিথারী গ্রাম থেকে ইউসুফ মোল্লাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই অভিযোগে হিঙ্গলগঞ্জর বাঁকড়া গ্রামের বাসিন্দা চঞ্চল মণ্ডলও ধরা পড়ে পুলিশের জালে। ধৃতদের জেরা করে উঠে আসে তিনটি নাম। তার মধ্যে প্রথমেই ছিল বসিরহাটের গণপতি পুরের বাসিন্দা জেলাশাসক দফতরের কর্মী শুভেন্দুবাবুর নাম। ধৃত ইউসুফ ও চঞ্চলের দাবি, এক একটি ভুয়ো লাইসেন্স পিছু দেড় লক্ষ টাকা করে নিতেন তিনি।
বসিরহাট, স্বরুপনগরের সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব নতুন নয়। নিরাপত্তার কারণে অনেক অবস্থাপন্ন ঘরের লোকজনই বাড়িতে বন্দুক রাখার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন করেন। সরকারি-বেসরকারি দফতরে পাহারা দেওয়ার জন্যও বন্দুকের আবেদন জমা পড়ে। এগুলোকে কাজে লাগিয়েই অসৎ উদ্দেশ্যে বন্দুকের লাইসেন্স জাল করার একটি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাদের মদত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সরকারি দফতরের কর্মীদের বিরুদ্ধেই। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের তালিকায় থাকা নামের মধ্যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকিদের খোঁজ চলছে।