
শেষ আপডেট: 10 December 2022 13:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবাসরীয় সন্ধ্যায় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল জানিয়েছেন, রবিবার টেটে (TET – Teachers Eligibilty Test) বসবেন ৬ লক্ষ ৯০ হাজার প্রার্থী। কিন্তু পর্ষবেক্ষকদের মতে, সংখ্যাটা হবে ১ বেশি। কাল টেটে বসবে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারও।
কেন?
শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বাংলার পরিবেশ ইতিমধ্যেই ভারী হয়ে রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন তো চলছেই। তা আরও ইন্ধন পেয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের উপর্যুপরি পর্যবেক্ষণে। ফলে রবিবার টেটে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার মহা চ্যালেঞ্জের মুখে এখন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ তথা রাজ্য সরকার। যেন সাধারণ পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে টেট তথা টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্টে বসবে পর্ষদ এবং নবান্ন।
কদিন আগে ডিএলএড পরীক্ষাতেও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেছিল। দেখা গেছিল পরীক্ষার আগে ফেসবুকের একটি পোস্টে যে প্রশ্ন আপলোড করা হয়েছে তা প্রকৃত প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে। এই অবস্থায় শনিবার সন্ধেয় পর্ষদ সভাপতি সাংবাদিক বৈঠক করতেই তাঁর কাছে সেই প্রশ্নই প্রথমে ওঠে। জবাবে গৌতম পাল বলেন, “আপনাদের কে বলল যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে”। তবে গৌতম পাল স্বীকার করে নেন যে তাঁরা আশঙ্কা করছেন, কেউ কেউ গণ্ডগোল পাকাতে পারে। গৌতমবাবুর কথায়, “কারা গণ্ডগোল পাকাতে পারে তা আমরা জানি। সেটা এখন বলতে চাইছি না। আপনারাও নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন যে তারা কারা?”
গৌতমবাবু এদিন তাঁর হতাশা গোপন করেননি। হতাশা এই কারণেই যে সাংবাদিক বৈঠকে তাঁকে বারবার প্রশ্ন ফাঁস ও গন্ডগোলের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু তাঁর মতে, জানার জন্য আরও ভাল জিনিস রয়েছে। এই পরীক্ষায় অনেক কিছু এবার নতুন হচ্ছে। স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা রাখতে সরকার ও পর্ষদ পরীক্ষায় কী কী ব্যবস্থা রাখছেন তা এরপর সবিস্তারে জানান প্রাথমিক পর্ষদের সভাপতি।
তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, গন্ডগোলের আশঙ্কা বা প্রশ্ন ফাঁসের মতো বিষয় এরপরেও পর্ষদকে উৎকণ্ঠায় রাখবে। আগের দিন ডিএলএড-এর প্রশ্ন ফাঁসের পর গৌতম বলেছিলেন, দেখুন এই সব পরীক্ষার সঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ জড়িত রয়েছেন। কেউ প্রশ্ন তৈরি করেন, কেউ সেগুলি ছাপেন, কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে পাহারা দেন। তাঁদের সততা ও নিষ্ঠার উপরে আমাদের ভরসা করতেই হয়। কিন্তু কোনও একজন যদি অসততা দেখান, তা হলেই পরিশ্রম পণ্ডশ্রমে পরিণত হতে পারে। কারও কারও মতে, পর্ষদ সভাপতি ভুল কিছু বলেননি। কারণ, এত হাজার লোকের মধ্যে একটা অসৎ লোক থাকলে তা আগাম আন্দাজ করা তো মুশকিল।
তবে গৌতম পাল এদিন বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, প্রশ্ন যাতে ফাঁস না হয় তার সমস্ত বন্দোবস্ত তাঁরা করেছেন। প্রশ্নপত্র এবং ওএমআর শিট একটা মুখবন্ধ খামে প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে দেওয়া হবে। তা পরীক্ষা কেন্দ্রে ইনভিজিলেটর বা সেন্টার ইনচার্জও খুলতে পারবেন না। তা ছাড়া ওএমআর শিটে ভবিষ্যতে যাতে কোনও কারচুপি না করা যায় সে জন্য ডুপ্লিকেট থাকবে। সেই কপি পরীক্ষার্থীরা বাড়িতে নিয়ে যেতে পারবেন।