
শেষ আপডেট: 31 March 2023 06:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাবালিকাদের বিয়ে (child marriages) আটকাতে গোটা দেশেই নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফেও অনেকগুলি প্রকল্প চালু আছে বাল্য বিবাহ আটকাতে। কিন্তু দেশের অনেক রাজ্যের মতো বাংলাতেও (Bengal) নাবালিকার বিয়ে কমার প্রত্যাশা পূরণ করা যায়নি বলে মনে করে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ (UNICEF)।
বিগত ৭০ বছর ধরে এই সংস্থাটি বাংলায় রাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে অসময়ে বিয়ে এবং পুষ্টির অভাব থেকে শিশু ও নাবালক-নাবালিকাদের সুরক্ষা দিতে কাজ করছে। এ জন্য তারা সরকার ছাড়াও পঞ্চায়েত, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, এনজিও, নাগরিক সংগঠন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক ওই সংস্থা মনে করে, বাল্য বিবাহ আটকানো এবং শিশুদের অপুষ্টির সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে আরও অনেক পথ চলা বাকি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে।
২০০৬-এর শিশু বিবাহ প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী বিয়ের ন্যূনতম বয়স ছেলেদের ক্ষেত্রে ২১ এবং মেয়েদের জন্য ১৮ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষার ২০১৯-’২০-র রিপোর্ট অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত বয়সের আগে বিয়ের হার ২০১৫-’১৬ সালের তুলনায় কমেনি। তা ৪১.৬ শতাংশেই থমকে ছিল। এমনকী নাবালক বিয়ের হার ১৭.৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯-’২০-তে ২০ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছে।
শুধু তাই নয়, চিন্তার বিষয় হল রাজ্যের দশটি রাজ্যে বাল্য বিবাহ আগের তুলনায় বেড়েছে। আশ্চর্যজনক হল, এই তালিকায় কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাও আছে যেগুলি আর্থিক মানদণ্ডে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে। এমনকী সামাজিক পরিকাঠামোও অনেক মজবুত। বাকি জেলাগুলি হল, পূর্ব মেদিনীপুর, কোচবিহার, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ দিনাজপুর।
সরকার নির্ধারিত বয়সের আগে বিয়ের পিছনে মুখ্যত কাজ করে লিঙ্গ বৈষম্য, দারিদ্র্য, অশিক্ষা এবং কিছু ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান। কম বয়সে বিয়ের ফলে অপরিপক্ক শরীরে সন্তান ধারণের ফলে প্রসবকালে মা ও শিশুর মৃত্যর ঘটনা ঘটছে। কম বয়সে বিয়ের জেরে বহু মেয়ে সামাজিক বিচ্ছিন্নতার শিকার হয় এবং নারী ও শিশু পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। কম বয়সে বিয়ে আটকাতে ইউনিসেফ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে তাদের কাজের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগচ্ছে।
তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ও গ্রামীণ জীবিকা মিশনের আনন্দধারা প্রকল্পের অধীনে থাকা মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির সাহায্যে নতুন উদ্যমে সমাজের বিভিন্ন কুপ্রথা দূরীকরণে প্রচারে নামতে চলেছে রাজ্য সরকার ও ইউনিসেফ। বাল্যবিবাহ রুখতে শিশু-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। চলতি মাসের মধ্যে অন্তত ১১০টি শিশু-বান্ধব সংঘ তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা, স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির নজরদারি ও নাবালিকাদের অঞ্চলভিত্তিক অবস্থা খতিয়ে দেখার জন্য খুব তাড়াতাড়ি একটি ব্যবস্থা আনা হচ্ছে।’