দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন রাজ্য সভানেত্রী জয়া দত্ত যোগ দিতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী-রেজিস্ট্রার পদে! এই খবরই ছড়িয়ে পড়েছে বুধবার বিকেল থেকে। জানা গেছে, দু’দিন পরেই ২৪ তারিখ থেকে এই পদে কাজ শুরু করতে চলেছেন তিনি। এই খবর সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই স্বজনপোষণের অভিযোগে রাজ্য় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন বিরোধীরা।
এ বিষয়ে জানার জন্য জয়া দত্তকে ফোন করা হলেও ফোন ধরেননি তিনি। তবে জয়ার ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের খবর, তিনি জানিয়েছেন, ওই পদের জন্য নিয়ম মেনেই আবেদন করেছিলেন তিনি। যথাসময়ে সাক্ষাৎকারও দেন ডাক পাওয়ার পরে। তার পরেই নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে নিয়োগপত্র এখনও হাতে পাননি বলেই দাবি করেছেন তিনি।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। এ মাসের ২০ তারিখে তার ইন্টারভিউ হয় বলেও জানা যায়। তবে প্যানেলে কার কার নাম ছিল, তা জানা যায়নি তখন। এর পরেই প্রকাশ্যে আসে যে, ওই পদে যোগ দেবেন প্রাক্তন ছাত্রনেত্রী জয়া দত্ত। অভিযোগ ওঠে, একাধিক যোগ্য ব্যক্তি আবেদন করা সত্ত্বেও দলীয় আনুগত্যের কারণে এই সুযোগ মিলেছে তৃণমূল নেত্রী জয়ার।
হাবড়ার নেতাজি শতবার্ষিকী কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী জয়া দত্ত কলেজে পড়ার সময়ে খুব কম সময়ের মধ্যেই ছাত্র পরিষদের মুখ হয়ে ওঠেন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপদের দায়িত্বও পান তিনি। কিন্তু তিনি সভানেত্রী থাকাকালীনই কলেজে কলেজে ভর্তি-পদ্ধতি নিয়ে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করে ছাত্র পরিষদের বিরুদ্ধে। নেত্রী জয়া দত্তের বিরুদ্ধেও সরাসরি অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে জয়া দত্তকে তাঁর পদ থেকে সরানো হয়। তবে শোনা যায়, দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তিনি।
ফলে এই অবস্থায় তাঁর কলেজে সহ-রেজিস্ট্রার পদে যোগ দেওয়ার খবরে বিতর্ক দানা বাঁধাই স্বাভাবিক। শুধু জয়া দত্তই নন, ছাত্র পরিষদের আরও দুই নেতা অন্য দু’টি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিচ্ছেন বলেও সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, এছাড়াও যাঁদের চাকরি নিয়ে একসময় স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছিল তাঁরা হলেন-
১। লগ্নজিতা চক্রবর্তী- ছিলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক। বর্তমানে চাকরি করছেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর পদে।
২। মণিশঙ্কর মণ্ডল- তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সহ-সভাপতি। বর্তমানে তিনি রয়েছেন সংস্কৃত কলেজের অ্যাসিসট্যান্ট প্রফেসর পদে।
৩। পামেলি দেবনাথ- ছিলেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রেসিডেন্ট। বর্তমানে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসট্যান্স এডুকেশনের এমবিএ বিভাগের কোর ফ্যাকাল্টি।
৪। সার্থক ব্যানার্জি- বর্তমানে দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কার্যকরী সভাপতি। প্রথমে ২০১৪ সালে প্রাইমারিতে চাকরি পান। এখন আশুতোষ কলেজের হেড ক্লার্ক হিসেবে কর্মরত।
৫। স্বদেশ সরকার- বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন জেনারেল সেক্রেটারি। গত বছর এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই টেকনিক্যাল অ্যাসিসট্যান্ট পদে যোগ দিয়েছেন।
৬। পৌলমী সামন্ত- আশুতোষ কলেজের প্রাক্তন জেনারেল সেক্রেটারি (টিএমসিপি)। বর্তমানে এই কলেজেরই অ্যাকাউন্ট অফিসার।
যদিও সেসময় এইসব অভিযোগের ভিত্তিতে তালিকায় থাকা অধিকাংশই জানিয়েছিলেন তাঁরা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পেয়েছেন। তবে জয়া দত্তর পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী-রেজিস্ট্রার পদে যোগ দেওয়ার খবরের পর ফের একবার উঠে এল এঁদের নাম।
তৃণমূল কর্মী হলে যে সরকারি চাকরি মেলে, তা নিয়ে আগেও একাধিকবার উঠেছে অভিযোগ। জয়া দত্তের চাকরি পাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতে আরওই জোরালো হল সেই অভিযোগ। তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন অনেকে।