
শেষ আপডেট: 2 November 2018 03:32
কল্পনার কল্পনা জগৎ থেকে মাঠ হারিয়ে গিয়েছে অনেক দিন আগেই। এখন শুধু লড়াই বেঁচে থাকার। জীবনের মাঠে পেট চালানোর গোল দিতে দিতে কখন যেন নিজের ফুটবলার সত্ত্বাকে প্রায় হারিয়েই ফেললেন কল্পনা। এখন বয়স মাত্র ২৬। কিন্তু দিন কাটে চায়ের দোকানে। খদ্দেরদের চা বানিয়ে দেন তিনি। বিশ্বাস হয় না, ২০০৮–এ অনূর্ধ্ব ১৯ মহিলা দলের হয়ে চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন এই কল্পনাই।
মেয়েদের ফুটবলের কোচ কাম ম্যানেজার রত্না নন্দী জানালেন, স্ট্রাইকার পোজ়িশনে বেশ ভাল খেলত কল্পনা। অনূর্ধ্ব ১৯ টিমে নিয়মিত খেলেছে দেশের হয়ে। শিলিগুড়ির একটা টিমের হয়ে কলকাতা লিগেও নিয়মিত খেলত। তার পরেই এক দিন আচমকা বন্ধ করে দেয় কলকাতা আসা।অর্থাভাব বরাবরই ছিল। পর্যাপ্ত খাওয়াদাওয়া ছাড়াই, ভাল জুতো ছাড়াই মাঠে জান লড়িয়ে খেলত কল্পনা। জাতীয় দলে সুযোগও পেয়েছিল। কিন্তু জোটেনি স্পনসর। জোটেনি কলকাতা শহরে একটা থাকার জায়গা। জোটেনি অসুস্থ বাবাকে ছেড়ে রেখে যাওয়ার মতো কোনও ভরসা। এই অবস্থায় কফিনের শেষ পেরেক মেরে দিল চোট। ২০১৩ সালে আইএফএ পরিচালিত মহিলা লিগে খেলার সময় ডান পায়ে চোট লাগে। এক বছর লেগেছিল সুস্থ হতে। কোথাও কোনও সাহায্য জোটেনি জাকীয় দলের ট্রায়ালে ডাক পাওয়া ফুটবল-কন্যার।
আর তখন থেকেই পেটের দায়ে চায়ের দোকান খোলেন কল্পনা। অসুস্থ বাবার চিকিৎসার জন্য আর সংসার চালানোর জন্য আর কোনও উপায় মেলেনি। ফুটবল অবশ্য এখনও আছে, কিন্তু সে-ও পেট চালানোর তাগিদেই। সপ্তাহে দু'দিন স্থানীয় ছেলেদের কোচিং দেন তিনি। পাঁচ বোনের সবার ছোট কল্পনা। দিদিরা বিবাহিত। মা মারা গিয়েছেন চার বছর আগে। বাবা অসুস্থ। ফুটবলের স্বপ্নও প্রায় মুছতে বসেছে চোখ থেকে। এখন রোজ ভোরে বাঁশি ঠোঁটে নিয়ে খুদেদের সঙ্গে মাঠ দাপান কল্পনা। সকাল দশটায় চায়ের দোকান খোলেন কল্পনা সপ্তাহে দু’দিন স্থানীয় ছেলেদের কোচিং করানোর জন্য দু’ঘণ্টা দোকান বন্ধ রাখেন বিকেলে, ৪টে থেকে ৬টা। যে ক্লাবের হয়ে তিনি কোচিং করান, তারা কল্পনাকে তিন হাজার টাকা দেন। কল্পনার কথায়, "আমি আজও আত্মবিশ্বাসী। এখনও সুযোগ পেলে ফুটবলকে অনেক কিছু দিতে পারি। একটা চাকরি দরকার খুব।" এমনকী পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে উত্তরবঙ্গ থেকে মহিলা ফুটবলার তুলে আনতেও উৎসাহী কল্পনা। নিজের ফুটবলার হওযার স্বপ্নকে অতিক্রম করে দৃঢ় গলায় বলছিলেন, "এখানে অনেক প্রতিভা রয়েছে। শুধু নেই পর্যাপ্ত পরিকাঠামো।"