
শেষ আপডেট: 17 August 2018 14:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের ভাঙন বাম শিবিরে। এ বার তৃণমূলে যোগ দিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা পরেশ অধিকারী। শুক্রবার উত্তরবঙ্গের এই নেতা তপসিয়ার তৃণমূল ভবনে এসে ঘাসফুলের পতাকা হাতে তুলে নেন।
পরেশবাবুর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে আগে তৃনমূলে যাওয়া প্রাক্তন ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা তথা বর্তমানে দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ।
চার বারের বিধায়ক ছিলেন পরেশবাবু। বামফ্রন্ট সরকারের সময় খাদ্য দফতর ছিল শরিক দল ফরওয়ার্ড ব্লকের হাতেই। নরেন দে’র পর ২০০৬-২০১১ সাল পর্যন্ত খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন পরেশ অধিকারী। বাম রাজনীতিতে কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের দাপুটে নেতা হইসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে ফরওয়ার্ড ব্লকের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেন তিনি। কিন্তু পরাজিত হন তৃণমূলের অর্ঘ্য রায় প্রধানের কাছে। তৃণমূলে যোগ দিয়ে পরেশবাবু বলেন, “নাগরিক পঞ্জি নিয়ে যা চলছে তাতে আমরা চিন্তায় আছি। সেখানে দাঁড়িয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে কাজ করছেন, এটাই তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আসল সময়।” পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেই উন্নয়নের কাজে হাত লাগাতে চান পরেশবাবু। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ইচ্ছে কে সম্মান জানিয়ে তাঁকে দলে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।” পরেশবাবুর তৃণমূলে অন্তর্ভুক্তি উত্তরবঙ্গকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সাহায্য করবে বলেও মন্তব্য করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
কিন্তু হেমন্ত বসু ভবন থেকে তৃণমূল ভবনে গিয়ে উন্নয়নে সামিল হওয়া নিয়ে বাম নেতারা কী বলছেন?
রাজ্য বামফ্রন্টের শীর্ষ নেতা তথা ফরওয়ার্ড ব্লকের বাংলা কমিটির সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “মেখলিগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত চ্যাংড়াবান্দা উন্নয়ন পর্ষদ রয়েছে। এই পর্ষদ গত ৬ অগস্ট বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায় তাদের নতুন চেয়ারম্যান হচ্ছেন পরেশ অধিকারী। এই সময়ই আমরা দল থেকে তাঁকে বলি, তিনি যদি ওই সরকারি পদে যোগ দেন তাহলে দল গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আজ শুনলাম উনি তৃণমূল ভবনে গিয়ে পতাকা নিয়েছেন।” নরেনবাবু জানান তিনি এখন কোচবিহারেই রয়েছেন। শনিবার দলের জেলা কমিটির বৈঠক হবে বলেও জানান তিনি। সূত্রের খবর শনিবারের বৈঠক থেকেই পরেশ অধিকারীকে আনুষ্ঠানিক বহিষ্কার করবে এই বাম দলটি।
বামেদের ভোট বিজেপিতে যাওয়া নিয়ে তৃণমূল নেত্রী একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কখনও নবান্নের চোদ্দতলার ঘরে বসিয়ে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু সহ বাম নেতাদের ফিশফ্রাই খাইয়ে নিচুস্তরের সংগঠন মজবুত করার পরামর্শ দিয়েছেন আবার কখনও একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে সেই উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে যতই এ সব হোক, বামেদের ভাঙানোতে শাসক দল এখনও ইতি টানেনি। যদিও অনেকেই বলছেন, ফরওয়ার্ড ব্লক থেকে পরেশবাবুকে তৃণমূলে আনার ক্ষেত্রে যিনি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা নিয়েছেন তিনি প্রয়াত কমল গুহর পুত্র উদয়ন গুহই।