
শেষ আপডেট: 5 September 2019 18:30
বুদ্ধবাবুর অসুস্থতার খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, “ বুদ্ধবাবুর শারীরিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় একটু ভাল। তাঁকে রক্ত দিতে হবে। উনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান, এটাই প্রার্থনা করছি।”
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও। টুইট করে তিনি জানিয়েছেন, "উডল্যান্ডসের আইসিসিইউতে ভর্তি আছেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাঁর শ্বাসের সমস্যা হয়েছিল। এখন তিনি কিছুটা ভালো, আমার সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন। ডাক্তারদের সঙ্গেও কথা বলেছি। যা যা করণীয় তাঁরা করছেন। "
https://twitter.com/jdhankhar1/status/1170028893006254080
২০০৯ সাল থেকে বুদ্ধবাবুর সিওপিডি-র সমস্যা। যে কারণে তাঁকে প্লেনে চড়তে বারণ করেছিলেন চিকিৎসকরা। ২০১১ সালের পর শ্বাসকষ্ট এমন জায়গায় যায়, যে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সিঁড়ি দিয়েও উঠতে পারতেন না উনি। ব্যবহার করতে হত লিফট। এমনও দিন গিয়েছে, বুদ্ধবাবুর কনভয় আলিমুদ্দিনে পৌঁছনোর পর দেখা যায় লিফট খারাপ, তখন পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে ফিরে চলে আসতে হয় তাঁকে।
গত আড়াই বছর ধরে গৃহবন্দী বুদ্ধবাবু। মাঝে শ্বাসকষ্টকে ছাপিয়ে গিয়েছিল চোখের সমস্যা। তখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটে গিয়েছিলেন বুদ্ধবাবুর বাড়িতে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন, হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা করাতে। কিন্তু, রাজি হননি বুদ্ধবাবু। গত ৩ ফেব্রুয়ারি বামেদের ব্রিগেডে খানিকটা জেদ করেই এসেছিলেন। তবে গাড়ি থেকে নামেননি। ১৫ মিনিট থেকেই ফিরে যান।
কয়েকদিন আগেই অসুস্থ মুখ্যমন্ত্রীকে বাড়িতে দেখতে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। রাজ্যপালের সঙ্গে তাঁর যে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল, তা দেখে প্রায় সকলেই বুঝতে পেরেছিলেন, শরীর একেবারেই ভালো নেই তাঁর। ইদানীং প্রায় সারাদিনই পোর্টেবল অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখতে হত তাঁকে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসার জন্য পাঁচ ডাক্তারের মেডিক্যাল বোর্ড তৈরি হয়েছে।