দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছরের পর বছর ঊর্ধ্বগামী স্রোতের মতো আরোহণ যে সাগরমাথাকে পৃথিবীর উচ্চতম ডাস্টবিনে পরিণত করে ফেলবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি! অথচ বাস্তবে হল ঠিক তেমনটাই। বছর-বছর আরোহণের সংখ্যা চড়চড়িয়ে বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এভারেস্টে বাড়ল আবর্জনার পরিমাণ।
লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে পর্বতারোহীরা এভারেস্ট আরোহণ করেন। গর্বিত হন। 'এভারেস্টি' হিসেবে মাত্রা যোগ করেন প্রোফাইলে। কিন্তু অনেকেই খেয়াল রাখেন না, এই এত আরোহণ যে হারে দূষণ বাড়াচ্ছে, তাতে হয়তো কয়েক বছর পরে এভারেস্ট আরোহীরা বলবেন, 'আমি পৃথিবীর উচ্চতম ডাস্টবিন আরোহণ করে এসেছি।'
এভারেস্টে অভিযান আয়োজক সংস্থাগুলি কথা তথা দেশবিদেশের পর্বতারোহীরা বোধ হয় এখনও জানেন না, তাঁরা কতটা ক্ষতি করছেন বিশ্বের উচ্চতম শৃঙ্গে এই বিপুল হারে অভিযান করতে গিয়ে। বস্তুত, যত বেশি দিন ধরে যত বেশি মানুষ কোনও জায়গায় যাবেন, সেখানে বর্জ্য ও আবর্জনা জমতে বাধ্য। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরে প্রায় ৬০০ পর্বতারোহী এভারেস্ট আরোহণ করেছেন। বেসক্যাম্পে থেকে শৃঙ্গ পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে ফ্লুরোসেন্ট টেন্ট, অপ্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট, খালি অক্সিজেন সিলিন্ডার, মানুষের মল, স্যানিটারি ন্যাপকিন, খাদ্যের অভুক্ত অংশ। যেমন প্রতি বছরই থাকে। আর বছর বছর এগুলির পরিমাণ বাড়তে থাকায় ক্রমেই সঙ্গীন হচ্ছে অবস্থা।
এভারেস্ট আরোহণের নেশায় বুঁদ আরোহীরা এ ভাবেই প্রাকৃতিক ভারসাম্য হত্যা করে চলেছেন বছরের পর বছর ধরে। সবাই যেন ভেবেছেন, ফেলেই যাই, আর তো আসছি না। অথবা আমার এইটুকু বর্জ্যে আর কী ক্ষতি হবে। তাঁরা বুঝছেন না, এই একটু একটু জমতে জমতেই বিপদের সীমায় পৌঁছেছে এভারেস্টের দূষণ। "এটা এক কথায় এটা ঘৃন্যতম কাজ ও দৃশ্যদূষণ" সংবাদ সংস্থাকে বললেন পেম্বা শেরপা, যিনি আঠারো বার এভারেস্ট আরোহণ করেছেন।

এমনিতেই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের রক্তচক্ষু পৃথিবীর জীববৈচিত্রকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়চে, হিমবাহ গলে যাচ্ছে। এ সব কিছু জেনেও নির্বিকার নেপালের পর্বতারোহণ ব্যবসায়ীরা। অভিযাত্রীরা এভারেস্ট আরোহণের জন্য মাথাপিছু ২০ হাজার ডলার থেকে এক লক্ষ ডলার পর্যন্ত খরচা করেন। তাই তাঁরা মনে করেন বর্জ্য পদার্থ নামিয়ে আনার ব্যাপারে তাঁদের কোনও দায় নেই। পেম্বা শেরপা সরাসরি দোষ দেন অফিসারদের। তাঁর কথায় "আরোহণের দিনগুলিতে ওপরের ক্যাম্প গুলিতে কোনও নজরদারি থাকে না।"
এভারেস্টের পরিবেশ যে বদলে যাচ্ছে তা বোঝা যায় এভারেস্টের গায়ে কমতে থাকা বরফ দেখে, খুম্বু গ্লেসিয়ার গলতে দেখে। টন টন বর্জ্য জমে আছে বিভিন্ন উচ্চতায়। সাগরমাথা পলিউশন কন্ট্রোল কমিটি-র (SPCC) তত্ত্বাবধানে নেপালের শেরপা-ক্লাইম্বররা ১৫ টন জৈবিক বর্জ্য ও ২৫ টন অন্যান্য বর্জ্য এভারেস্ট থেকে নামিয়ে এনেছেন। কিন্তু এটা মোট দূষণের তুলনায় কিছুই নয়।
পরিবেশবিদেরা আশঙ্কা করছেন, এই এভারেস্ট দূষণ সরাসরি বিষাক্ত করছে উপত্যকার নদীগুলি, ছড়াচ্ছে রোগ। নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান আং শেরিং শেরপা, বলছেন, "এটা সাধারণ আরোহীদের কাজ নয়। সরকারের উচিৎ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং বিভিন্ন সংস্থাকে বর্জ্য পরিষ্কারের ব্যাপারে বরাত দেওয়া।"