দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির এইমস-এর প্রবেশিকা পরীক্ষা এবং পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্টের প্রবেশিকা পরীক্ষা পড়েছে একই দিনে। ফলে অভিযোগ, রাজ্যের বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী জয়েন্ট দিতে গিয়ে, দেশের একটি সেরা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাওয়ার পরীক্ষায় বসা থেকে বঞ্চিত হবে।
শুধু পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নয়, এ নিয়ে রাজ্যের চিকিৎসক মহলেও ক্ষোভ রয়েছে। সম্প্রতি এক ছাত্র রাজ্যের জয়েন্ট এনট্রান্স বোর্ডের চেয়ারম্যান মলয়েন্দু সাহাকে পরীক্ষার দিন বদলানোর আবেদন জানিয়ে লিখিত চিঠিও পাঠিয়েছেন। ওই ছাত্র দাবি করেছেন, একই দিনে দু'টি পরীক্ষার তারিখ পড়ার কারণে রাজ্যের অনেক পরীক্ষার্থীই জয়েন্ট দিতে গিয়ে এইমস-এর পরীক্ষা দিতে পারবেন না। ফলে জয়েন্টের পরীক্ষার দিন বদলানোর অনুরোধ করেছেন তিনি।
মলয়েন্দু সাহা অবশ্য জানিয়েছেন, এমনটা কোনও মতেই সম্ভব নয়। কারণ জয়েন্ট পরীক্ষার তারিখ বহু আগে থেকে ঠিক করা হয়েছে বোর্ডের তরফে। এবং সেটা জানানোও হয়েছে অন্যান্য পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থাগুলিকে। তাঁর দাবি, এতে জয়েন্ট বোর্ডের কোনও দোষ নেই।
জানা গিয়েছে, চলতি বছরে দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার সেরা প্রতিষ্ঠান এইমস-এর প্রবেশিকা পরীক্ষার তারিখ ২৫ ও ২৬ মে। সেই সময়েই রাজ্যে রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রবেশিকা পরীক্ষা, তারিখ ২৬ মে। যেহেতু বহু পরীক্ষার্থী মেডিক্যাল পড়ার জন্য দু'টি পরীক্ষাতেই বসেন, সেহেতু বহু মেধাবী পরীক্ষার্থী একই দিনে দু'টি পরীক্ষার তারিখ হওয়ায়, একটি পরীক্ষায় তাঁরা বসতে পারছেন না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরাও অনুরোধ করেছেন যে রাজ্যের নিয়ামক সংস্থা জয়েন্ট পরীক্ষার দিন বদলাক।
চিকিৎসক প্রদীপ রায় বলেন, এতে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে রাজ্যের ছেলেমেয়েদের। কারণ অনেকের মেধা থাকলেও তাঁরা একই দিনে দু''টি পরীক্ষা না-দিতে পারার কারণে, সুযোগ কমে যাবে। এতে ছাত্রদের যেমন ক্ষতি, তেমনই বৃহত্তর সমাজেরও ক্ষতি। পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থাগুলির উচিত, পরীক্ষার তারিখ যাতে মিলে না যায় তা নিয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া।
সায়ন বেজ নামের এক ছাত্র বলেন, "মেডিক্যালের জন্য এইমস-এর ফর্ম ফিলআপ করেছিলাম। আবার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য রাজ্য জেন্ট এনট্রান্স বোর্ডের ফর্মও ফিলআপ করি। এখন দেখছি এইমস-এর পরীক্ষা ২৫ ও ২৬ তারিখ। আমার ২৬-এ পড়েছে। কিন্তু জয়েন্টের পরীক্ষার তারিখও ২৬। যে কোনও একটায় বসতে পারব। ফলে আমার সুযোগ কমে গেল।"
তবে এমন আরও হয়েছে। জিপমার অ্যাডমিশন টেস্ট এবং আইআইএসইআর-এর অ্যাডমিশন টেস্ট দু'টিই দোসরা জুনে ছিল। অভিভাকদের অনুরোধে আইআইএসইআর তাঁদের অ্যাডমিশন টেস্টের তারিখ বদলে ৬ জুন করেছে। জয়েন্ট পরীক্ষার্থীদের অনুরোধ, সেই ভাবেই জয়েন্ট পরীক্ষার তারিখেও বদল হোক।
অনেকেই রাজ্য জয়েন্ট বোর্ডের উপর দোষ চাপাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, এইমস-এ এক বছর আগে থেকে পরের বছরের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে দেয়। তাহলে রাজ্য জয়েন্ট এনট্রান্স বোর্ড কেন তা খেয়াল রাখল না?
ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান মলয়েন্দু সাহা টেলিফোনে 'দ্য ওয়াল'কে জানান, এখন পরীক্ষার তারিখ বদল করা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। তাঁর যুক্তি, "গত ডিসেম্বর মাসে আমরা পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছি। তখনই সমস্ত পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থাকে জানানোও হয়। আপত্তি উঠলে তখনই ওঠা উচিত ছিল। এখন আর কোনও কিছুই সম্ভব নয়।"