
শেষ আপডেট: 7 November 2022 08:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট—এই দুই কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থারই দাবি যে গরু পাচার মামলায় নাটের গুরু ছিল এনামুল হক (Enamul Haque)। এক শ্রেণির অসাধু পুলিশ কর্তা, বিএসএফ এবং রাজনীতিকদের সঙ্গে বোঝাপড়া করে সেই সীমান্ত পার করাত পাল পাল গরু। আর তার মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকার বেআইনি কারবার করেছিল এনামুল।
সেই এনামুলের বিলাসের অন্ত ছিল না। তার বাসভবন, অভিজাত হোটেলে থাকা ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু গরু পাচার মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর এখন এনামুল রয়েছে তিহার জেলে (Tihar Jail)। গরু পাচার মামলায় যেখানে বন্দি রয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের দেহরক্ষী সায়গল হোসেন। যার সম্পত্তির পরিমাণও একশো কোটি টাকা বা তার বেশি বলে ইডির দাবি। কিন্তু ঘটনা হল, অত টাকা দেহে সইল কোথায়! তিহার জেলের সেলে দু'জনকেই সিমেন্টের তৈরি উঁচু বেদির উপর শুতে হচ্ছে। তাতে পাতার জন্য ও গায়ে দেওয়ার জন্য দেওয়া হয়েছে কম্বল।
সোমবার দিল্লির রাউজ অ্যাভেনিউ আদালতে গরু পাচার মামলার শুনানির সময়ে এনামুলের আইনজীবী আদালতকে জানান, ঠান্ডার কারণে তাঁর মক্কেলের রাতে ঘুম হচ্ছে না। খালি মেঝের উপর শুতে গিয়ে ঠান্ডায় পিঠ বেঁকে যাচ্ছে। তাঁকে যদি একটা ম্যাট্রেসের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, তা হলে ভাল হয়। এনামুলের আইনজীবী আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ উপকূলবর্তী রাজ্য। সেখানে শীত দিল্লির তুলনায় কম। তাঁর মক্কেল এনামুল তাতেই অভ্যস্ত। দিল্লির ঠান্ডা তাঁর সহ্য হচ্ছে না। জবাবে বিচারক বলেন, আর পাঁচ জন বন্দি যে সুবিধা পাচ্ছে, এনামুল তাই পাবে। তার অতিরিক্ত ব্যবস্থা করা যাবে না।
দিল্লিতে তিহার জেলে অভিযুক্তদের জন্য যে কখনও বিশেষ ব্যবস্থা করা হয় না, তা নয়। রাজনৈতিক বন্দি বা কর্পোরেট কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্তদের জন্য অনেক সময়েই বিশেষ ব্যবস্থার অনুমতি দেওয়া হয়। যেমন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম পৃথক সেলে বেড ও অন্যান্য সুবিধা পেয়েছিলেন। বাড়ি থেকে তাঁর খাবার যেত। সেই অনুমতিও দিয়েছিল আদালত।
কিন্তু এনামুলের ক্ষেত্রে ফারাক রয়েছে। গরু পাচার মামলায় তাকে গ্রেফতার করে জেল হেফাজতে রাখা হয়েছে। ফলে আলাদা করে ম্যাট্রেস দেওয়ার ব্যাপারে এদিন কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি আদালত।