দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: প্রতিদিন রাত হলেই গ্রামে ঢুকে পড়ছে হাতির পাল। ভেঙে ফেলছে মাটির ঘরবাড়ি। বাড়ির উঠোনে রাখা ধানের গোলা থেকে সাবাড় করে দিচ্ছে ধান। অভিযোগ, দলমার হাতির দল গ্রামে ঢুকলে বন দফতরকে খবর দিলেও হাতি তাড়ানোর কোনও উদ্যোগ নেয় না বন দফতর। তাই আতঙ্কের পরিবেশে বসবাস করতে হচ্ছে বিনপুর ২ নম্বর ব্লকের কাঁকো গ্রাম পঞ্চায়েতের মালাবতী গ্রাম সহ প্রায় ১২ টি গ্রামের মানুষকে।
এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার মালাবতী জুনিয়র হাইস্কুলের সামনে ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া পাঁচ নম্বর রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন লক্ষ্মণপুর, ঢেঙ্গানেদাড়, গিল্লাবনী, কালিআম, বন আউলিয়া, বিড়গেড়িয়ে, জামডাঙা, বোস্টমপুর সহ একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা। সকাল ১০ টা থেকে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় বসে পথ অবরোধ শুরু করেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, মালাবতী জঙ্গলে প্রতিদিন দলমা থেকে হাতির দল আসছে এবং জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে ঢুকে উৎপাত করছে। খেতের ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি জীবনহানির আতঙ্কও গ্রাস করছে তাদের।
গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, গ্রামে হাতি ঢুকলে বিনপুর বিট অফিসে জানানো হলে তারা কখনও হাতি তাড়ানোর জন্য উদ্যোগী হয় না এবং এই এলাকায় হুলা পার্টির কোনও সদস্য নেই। বিনপুর বিট অফিসে সমস্যা নিয়ে গেলে বিট অফিস থেকে তাঁদের হাতে দু’ লিটার মবিল এবং একটি হুলা দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। লক্ষ্মণপুর গ্রামের সুরেশ হাঁসদা, ঢেঙানেদাড় গ্রামের রাজীব মুর্মু, গিল্লাবনী গ্রামের আকাশ সরেনরা বলেন, ‘‘হাতির জন্য রাতের পর রাত জাগতে হচ্ছে আমাদের। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতক্ষণ না পর্যন্ত বন দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই অবরোধ চালিয়ে যাব।’’ অবরোধের দরুন ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া ৫ নম্বর রাজ্য সড়কের দুদিকেই দাঁড়িয়ে পড়ে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী গাড়ি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় বিনপুর থানার পুলিশ। অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য আর্জি জানান তাঁরা। বনদফতরের কর্তাদের উপস্থিতিতে অবশেষে বেলা দু’টোর পর অবরোধ ওঠে। শিলদা রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জ অফিসার সন্দীপ বাউরি জানান, হাতি তাড়ানোর মতো হুলা পার্টি তাঁদের কাছে নেই। তবে হাতির আক্রমণ থেকে গ্রামবাসীদের বাঁচাতে খুব দ্রুত হুলা পার্টি তৈরি করা হবে। তারাই ড্রাইভ করে হাতি জঙ্গলে ফিরিয়ে দিয়ে আসবে।
এখনও মালাবতী জঙ্গলে এগারোটি হাতির একটি দল রয়েছে বলে জানান গ্রামবাসীরা।