
শেষ আপডেট: 17 May 2023 06:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: এগরার বাজি কারখানার মালিক ভানু বাগের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করল পুলিশ। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে (Egra blast) ইতিমধ্যেই ন’জনের মৃত্যু হয়েছে। বেশ কয়েকজন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে কলকাতায় এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা গ্রাম। ভানু বাগের বাড়িতে বারুদের স্তূপ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ।
মঙ্গলবার দুপুর একটা নাগাদ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এগরার খাদিকুল গ্রাম (Egra cracker unit burst)। বিকট শব্দে গোটা গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়। পরে জানা যায় বিস্ফোরণ ঘটেছে ভানু বাগের বাজি কারখানায়। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন এই তৃণমূল সদস্যের বেআইনি এই বাজি কারখানায় আগেও বিস্ফোরণ হয়েছিল বলে জানা গেছে। তারপরে গ্রেফতারও করা হয়েছিল ভানুকে। মঙ্গলবার ফের বাজি কারখানায় বিস্ফোরণের পরেই বেপাত্তা হয়ে যায় ভানু।
বিস্ফোরণের পরেই এই ঘটনার সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মৃতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা এবং গুরুতর আহতদের পরিবারপিছু ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, এটি একটি বেআইনি বাজি কারখানা যার মালিক কৃষ্ণপদ বাগকে ২০২২ সালের ১৯ নভেম্বর গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তারপর আদালত থেকে জামিন পান তিনি। বিজেপি কৃষ্ণপদ ওরফে ভানুকে তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করলে মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা প্রশ্ন, তৃণমূলের লোক হলে গতবার কালীপুজোর সময় রাজ্য পুলিশ কেন গ্রেফতার করল ওঁকে?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ১৯৯৫ সালে ভানু বাগের বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল পাঁচজনের। পরবর্তীতে আবারও বিস্ফোরণ। মৃত্যু হয় ভানুর ভাই-সহ তিনজনের। স্থানীয় সূত্রে খবর, ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাজির ব্যবসা করেন ভানু। তাঁর তৈরি বাজির চাহিদাও ছিল। ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই শাসকদলের সঙ্গে ভানুর যোগাযোগ বাড়ে। পরে গ্রামপঞ্চায়েতের সদস্যও হয়েছিলেন। এলাকার বাসিন্দারা দাবি করেন, মঙ্গলবার বিস্ফোরণের সময়ও বাড়িতেই ছিল ভানু। সে সময় কারখানায় ১৮ থেকে ২০ জন কাজ করছিলেন। তাদের মধ্যে সিংহভাগই মহিলা। বিস্ফোরণের পরেই ঘটনাস্থল থেকে পরিবার নিয়ে সরে পড়ে ভানু। ঘর লাগোয়া কারখানায় তখন আর্তনাদ আর বাঁচার আর্তি। সে সব কান না দিয়েই গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়।