দ্য ওয়াল ব্যুরো: শহরের বুকে চলা হাওয়ালা কারবারের শিকড় যে আরও গভীরে তার হদিশ আগেই পেয়েছিলেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট(ইডি)-র গোয়েন্দারা। এ বার নজরে এল রিয়েল এস্টেট সংস্থা সিদ্ধা গ্রুপ। অভিযোগ, হাওয়ালা কাণ্ডের কোটি কোটি টাকা খাটানো হয়েছে এই আবাসন প্রকল্পে। বুধবার এই সংস্থার একজন আধিকারিককে ডেকে পাঠানো হয় ইডি-র দফতরে। যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে সিদ্ধা গ্রুপের তরফে।
সারদা কাণ্ডের তদন্তে নেমে ইডি হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাঠানোর তথ্য পায়। শুরু হয় তদন্ত। জানা যায়, বিদেশি মুদ্রার মাধ্যমে কয়েকশো কোটি টাকার হাওয়ালা কারবার চলছে শহরেরই বুকে। তার শিকড় ছড়িয়ে পড়েছে ভিন রাজ্যেও। সেই কারবারে নাম উঠে আসে শহরের কিছু ব্যবসায়ী এবং আবাসন সংস্থার নাম।
ইডি-র তদন্তকারীদের দাবি, যে সংস্থাগুলির মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা নিয়মিত বিদেশে টাকা লেনদেন করতেন তার মধ্যে রয়েছে সিদ্ধা গ্রুপের নামও। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, হাওয়ালার কোটি কোটি টাকা এই গ্রুপের বিভিন্ন প্রকল্পে খরচ করে হয়েছে। এরপরেই সিদ্ধা গ্রুপের অধিকর্তাকে নোটিশ পাঠায় ইডি।
এই ব্যাপারে সংস্থার আধিকারিক সঞ্জয় জৈন জানিয়েছেন, সিদ্ধা গ্রুপ এই ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নয়। তিনি বলেছেন, “আমাদের একজন কাস্টমার ফ্ল্যাট কিনে চেক ব্যাঙ্কে জমা করেন। সেখান থেকেই আমাদের নাম উঠে আসে। তিনি সেই টাকা কী ভাবে পেয়েছেন, কোথা থেকে পেয়েছেন আমরা কিছুই জানি না।” সেই সঙ্গে তিনি জানান, ইডি-র তলব পেয়ে আজ সংস্থার কাস্টমার কেয়ারের কয়েকজনকে ইডি-র দফতরে পাঠানো হয়। তদন্তকারীদের তাঁরা পুরো বিষয়টা জানালে সেখানেই সবকিছু মিটে যায়।
হাওয়ালা কারবারের হদিশ পেতে গত বছর শহরজুড়ে তল্লাশি অভিযান চালান ইডি-র তদন্তকারীরা। তাতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, কলকাতা থেকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রার লেনদেন হয় বেআইনি পথে। শহরে প্রচুর বিদেশি পর্যটক আসেন। তাঁদের হাত ধরে শহরে ঢোকে প্রচুর বিদেশি মুদ্রা। সেটাই নানা সংস্থার হাত ঘুরে চালান হয় বেআইনি পথে। ইডি সূত্রে জানা গেছে, এই হাওয়ালা কারবারের প্রাথমিক তথ্য এসেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের কাছ থেকে। সেই সূত্র ধরেই সামনে আসে কয়েকশো কোটি টাকার হাওয়ালা কারবার। বিদেশি মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন(ফেমা)-তে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছেন ইডি আধিকারিকরা।