
শেষ আপডেট: 10 November 2022 06:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) জামাইবাবু কমলাকান্ত ঘোষকে এবার তলব করল ইডি (Enforcement Directorate)। সূত্রের খবর, বোলপুরের ভোলে ব্যোম রাইস মিল সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে ইডি দিল্লি ডেকে পাঠিয়েছে। উল্লেখ্য, এই রাইস মিলের অন্যতম মালিক অনুব্রতর মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলও। সুকন্যাকেও ইতিমধ্যেই একাধিকবার ইডির তলব পেতে হয়েছে। এবার অনুব্রতর জামাইবাবুকেও ডাকা হল। জানা গেছে, শুক্রবার দিল্লিতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমলাকান্ত ঘোষকে।
এদিকে গরুপাচার মামলায় (cow smuggling case) আজই ফের দিল্লিতে ইডি দফতরে তলব করা হয়েছে অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী মলয় পিটকে (Malay Pit)। ইডির সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীন ট্রাস্টের কর্ণধার মলয় পিটকে প্রথমবার জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারীরা সন্তুষ্ট নন। মলয়ের কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। আবার বহু প্রশ্নের উত্তরও তিনি ঠিকঠাক দেননি বলেই মনে করছে ইডি। তাই ফের তলব করা হয়েছে ওই ব্যবসায়ীকে।
বীরভূম তৃণমূলের জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে গরু পাচার মামলার শুরু থেকেই একের পর এক তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে চোখে চোখে রেখেছে ইডি। এমনকি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উপরেও নজর রয়েছে ইডি আধিকারিকদের। এরকমই একাধিক অনুব্রত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের রেফারেন্স হিসাবে নাম রয়েছে কমলাকান্তের। এমনকি সেই সমস্ত ব্যক্তির ব্যাঙ্কের ফর্মও তিনিই ফিলআপ করেছিলেন। ইডির তদন্তে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
একাধিক ভুয়ো নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আর সেই অ্যাকাউন্টের ফর্ম ফিলআপ করছেন অনুব্রতর জামাইবাবু, তদন্তকারীদের কাছে এই তথ্যও রয়েছে। কীসের ভিত্তিতে তিনি এই কাজ করছিলেন, এবার সেটাই জানতে চান ইডি অফিসাররা। তাঁরা প্রথম থেকেই একটা কথা বলেছেন যে, অনুব্রত নিজের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা ছাড়াও পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করেছেন। এবার ইডি আধিকারিকরা কমলাকান্ত ঘোষকে তলব করে সেটাই জানতে চাইবেন যে, এই ঘটনায় তিনি কীভাবে লাভবান হয়েছেন!
উল্লেখ্য, শুধু গরু পাচার মামলা নয়, অন্যদিকে লটারি কেলেঙ্কারিতেও নাম জড়িয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের। এবছরের শুরুতেই ডিয়ার লটারিতে বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতির ১ কোটি টাকা জেতার খবরে হইহই পড়ে গিয়েছিল বাংলা জুড়ে। আদৌ তিনি টাকা জিতেছিলেন, নাকি কালো টাকা সাদা করেছিলেন, তা এখন সিবিআই তদন্ত করে দেখছে।
আর সেই তদন্ত করতে গিয়েই উঠে এসেছে আরও বিস্ফোরক তথ্য। জানা গেছে একবার নয়, মোট চারবার বাপ-বেটি, অর্থাৎ অনুব্রত-সুকন্যা মিলে লটারি জিতেছিলেন। অনুব্রত ও তাঁর মেয়ে চার-চারটি লটারি জেতার ঘটনা নিয়ে তাই সিবিআইয়ের সন্দেহ বাড়ছে। তাঁরা খতিয়ে দেখছে, এ ভাবে অনুব্রতর স্ত্রী বা তাঁদের নিকট আত্মীয় বা পরিচারক-পরিচারিকার নামে কোনও লটারির টাকা ঢুকেছিল কিনা।
সিবিআই এবার ঢুকছে পাড়ায় পাড়ায়, বোলপুরের দুই কাউন্সিলরকে জরুরি তলব ক্যাম্পে