দ্য ওয়াল ব্যুরো: শরতের আগে প্রতিবছরই কোনও না কোনও দেশে কুমোরটুলির দুর্গা ঠাকুর যায় শারদীয়া পুজোর জন্য। বাঙালির পার্বনের শেষ নেই, তবে তার জন্য বাংলা থেকে বিদেশে প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার কথা তেমন শোনা যায় না দুর্গাপুজো ছাড়া। এবার নদিয়া থেকে দুর্গাপ্রতিমাই যাচ্ছে, তবে শারদীয়ার জন্য নয়, বাসন্তীপুজোর জন্য।
সামনের বছর ৩১ মার্চ শুরু বাসন্তীপুজো। বাংলা হিসাবে এই বছর চৈত্র মাসে। সেই পুজোর জন্যই নদিয়ার তাহেরপুর থেকে সুইৎজারল্যান্ডের জুরিখে যাচ্ছে মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গার প্রতিমা। বসন্তে তাঁর পুজো, তাই নাম বাসন্তী। তিনটি প্রতিমা যাচ্ছে সেখানে। প্রতিমাগুলি ফাইবারের নয়, মাটির।
মাটির বদলে ফাইবারের দুর্গাই পুজো হয় বিদেশে। ফাইবারের তৈরি প্রতিমা তুলনায় হাল্কা হয়, সহজে ভেঙে যায় না এবং বেশ কয়েকবছর ধরে পুজো করা যায়। তবে জুরিখে পাঠানো দুর্গাপ্রতিমা মাটির। বিদেশে যাতে ঢুকতে পারে সেই প্রতিমা, সে জন্য শিসা নেই এমন দামি রং ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পী বিজয় পাল।
ফেসবুকের মাধ্যমেই বিজয়ের সঙ্গে আলাপ জুরিখনিবাসী গৌর গুপ্তর। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ব্যবহার করে তাঁরা রফা করেন প্রতিমা নিয়ে। তিনটি প্রতিমার বরাত পান নদিয়ার তাহেরপুরের বাদকুল্লা বাজার এলাকার বিজয় পাল। বছর চল্লিশের বিজয় বলেন, “প্রতিমার উচ্চতা চার ফুট, একচালা প্রতিমা চওড়ায় পাঁচফুট। আলাদা ভাবে দুর্গাপ্রতিমা দু’ফুট এবং লক্ষ্মী-সরস্বতী-কার্তিক-গণেশ দেড় ফুট করে। মাটির প্রতিমা, জরির সাজ।” অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে কাজ শুরু করে সম্প্রতি তিনটি প্রতিমা তৈরি শেষ করেছেন। কলকাতা থেকে জাহাজে সুয়েজ খাল পার হয়ে প্রতিমা যাবে জুরিখে।
এর আগে বিভিন্ন সময় ফাইবারের প্রতিমা বিদেশে পাঠিয়েছেন। আড়াই ফুটের একটি পিতলের গণেশও তিনি পাঠিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটালান্টায়। এবার মাটির প্রতিমা বানিয়েছেন, কারণ ক্রেতা চাইছিলেন বাংলায় যে ভাবে ঠাকুর পুজো হয় একেবারে সেই ভাবেই পুজো করবেন ইউরোপে। বিজয় পাল বলেন, “কাঠের বাক্সে এমন ভাবে প্রতিমা পাঠানো হবে যাতে তার কোনও করম ক্ষতি না হয়।” প্রতিটি প্রতিমার ওজন পঞ্চাশ কিলোগ্রাম করে, প্রতিটির জন্য শিল্পী পাচ্ছেন এক লক্ষ টাকা।
বসন্তকালে বাঙালির বাড়িতে বাড়িতে পরপর কয়েকদিন থাকে উৎসবের মেজাজ – অশোকষষ্ঠী, বাসন্তীপুজো, অন্নপূর্ণাপুজো আর রামনবমী। গ্রেগেরিয়ান পঞ্জিকার হিসাবে মোটামুটি মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝির মধ্যে পরপর চারদিন এই উৎসব। বাসন্তীপুজোয় জৌলুস নেই বাংলায়, তবে যাঁদের বাড়িতে বাসন্তীপুজো হয়, তাঁরা শারদীয়া দুর্গাপুজোর মতোই তা পালন করেন। জুরিখের গৌর গুপ্তও সেটাই চাইছেন।