
শেষ আপডেট: 4 January 2023 10:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড়দিন, বর্ষবরণ- সবমিলিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে উৎসবের মরশুমে (festive season) ছিল এই রাজ্যে। পার্ক স্ট্রিট, লেকটাউনের (Laketown) মতো শহরের একাধিক এলাকায় ক্রিসমাস উপলক্ষে সাজানো হয়েছিল রাস্তাঘাট। পথে নেমেছিল সাধারণ মানুষও। এই সুযোগকে হাতিয়ার করেই একাধিক বাড়িতে চুরির (theft) ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনারই তদন্ত শুরুর পর লেকটাউন পুলিশের হাতে ধরা পড়ল আন্তঃরাজ্য চুরি কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড।

সূত্রের খবর, ডিসেম্বর মাসের গত ১৮ এবং ২৫ তারিখ লেকটাউনের দুটি ফ্ল্যাটে একই কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটেছিল। তদন্তে নামার পর লেকটাউন থানার পুলিশের হাতে বেশ কিছু তথ্য এসে পৌঁছয়। সেখান থেকেই পুলিশ জানতে পারে দুই সন্দেহজনক ব্যক্তি যে এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটেছে সেখানে এর আগেও দুপুরবেলা ঘুরে বেরিয়েছে।
পুলিশের দাবি, উৎসবের মরশুমকেই হাতিয়ার করতো এই চক্র। ছুটির দিনগুলোতে সাধারণ মানুষ যখন ঘর বন্ধ করে রাস্তায় ঘুরতে বেরোতেন সেই সময়ই ওই দুজন গোটা এলাকা রেকি করে নিত। সেই ঘটনারই সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে এসে পৌঁছয়। এরপরই এলাকার একটি ফাঁকা ফ্ল্যাটকে টার্গেট করে অপারেশন চালায় ওই দুষ্কৃতীরা। ১ মিনিটের মধ্যে গেটের তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে এবং মোট ১২ মিনিটে অপারেশন শেষ করে এই টিম। জানা গেছে, ওই ফ্ল্যাটের ভিতর থেকে সোনা, রূপো এবং হিরের গয়না-সহ নগদ টাকা পিঠ ব্যাগে ঢুকিয়ে চম্পট দেয় দুজন।
তদন্ত শুরু করে পুলিশ জানতে পারে, শুধু লেকটাউন নয়, এই টিম চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে কলকাতার আরও একাধিক এলাকা, এমনকী মহারাষ্ট্র-সহ ভিনরাজ্যেও। সূত্র মারফত পুলিশের কাছে খবর আসে, এই টিম নিজেদের অপারেশন শেষে চুরির যাবতীয় জিনিস রাখত হুগলির সিঙ্গুর এলাকার একটি বাড়িতে।
এরপরই মঙ্গলবার রাতে সিঙ্গুরের ওই বাড়িতে হানা দেয় লেকটাউন থানার পুলিশ। সেখান থেকেই চক্রের মাস্টারমাইন্ড কালীপদ দাস ওরফে কালীকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হয় চুরি হয়ে যাওয়া বেশ কিছু হিরে, সোনা এবং রুপোর গয়না সহ নগদ ৫০ হাজার টাকা। বুধবারই অভিযুক্তকে বিধাননগর আদালতে তোলা হয়। সেখানে পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আর কে কে জড়িত, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বসিরহাটে সিলিন্ডার ফেটে বিধ্বংসী আগুন! পুড়ে গেল ঘরবাড়ি, মৃত্যু ১ প্রৌঢ়ের