
শেষ আপডেট: 8 July 2018 11:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সঙ্কটজনক অবস্থাতেই ভর্তি হয়েছিলেন রোগী। তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালের গাফিলতির অভিযোগ তুলে রোগীর বাড়ির লোক এবং বহিরাগতরা মিলে তাণ্ডব-লুঠ চালালো হাসপাতালে।
গত ৩ জুলাই বেনাচিতি শালবাগানের বাসিন্দা ইন্দিরা মল্লিক (৩০) নামের এক মহিলাকে দুর্গাপুর মিশন হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁর পরিবারের লোকজন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে কিডনির সমস্যা সহ একাধিক জটিল সমস্যা নিয়ে ইন্দিরাকে ভর্তি করা হয়। ৬ জুলাই পর্যন্ত রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও শনিবার তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয় তাঁকে। এরপরই হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে বাইরে থেকে লোক এনে হাসপাতালে তাণ্ডব চালায় ইন্দিরার পরিবারের লোকজন। ভেঙে দেওয়া হয় একাধিক দরজার কাঁচ। আক্রান্ত হন হাসপাতালের ৮ জন স্টাফ। এরমধ্যে সবিতা দেবনাথ নামের এক মহিলাকর্মী গুরুতর আক্রান্ত হন। তাঁকে ভর্তি রাখা হয়েছে হাসপাতালেই।
শনিবার বেলা সড়ে তিনটে নাগাদ এই হামলা হয় হাসপাতালে। সন্ধেবেলাই নিউ টাউনশিপ থানায় রোগীর স্বামী সহ পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুধু ভাঙচুর নয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগে জানিয়েছে ক্যাশ কাউন্টার থেকে টাকাও লুঠ করা হয়েছে। ১ লক্ষ ৭৩ হাজার টাকা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছে মিশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মহিলা কর্মীদের শারীরিক নিগ্রহও করা হয় বলেও দেখা গিয়েছে সিসিটিভি ফুটেজে।
হাসপাতালের চিকিৎসক পার্থ পাল বলেন, ‘বহিরাগতরাই এই হামলা চালিয়েছে।’ রবিবার বিকেল পর্যন্ত ইন্দিরা মল্লিককে ভেন্টিলেশনেই রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে মিশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: যাদবপুরের পথে মেডিক্যাল, স্বচ্ছতার দাবিতে অনশন শুরু পড়ুয়াদেরকয়েক দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালে ভাঙচুর নিয়ে কড়া পদক্ষেপের কথা বলেছিলেন। ১ জুলাই চিকিৎসক দিবসে কলকাতা পুলিশ টুইট করেও সেই বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এখন দেখার মিশন হাসপাতালে তাণ্ডবকারীদের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর কমিশনারেট কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
আরও পড়ুন: মেয়েকে স্কুলে পৌঁছতে গিয়ে বেলাগাম বাসের বলি বধূ https://www.youtube.com/watch?v=IlfZaCGvGdk