দ্য ওয়াল ব্যুরো: বয়স প্রায় ৭০ ছুঁই ছুঁই। বহুদিন ধরে হারিয়ে যাচ্ছে শক্তি। কখন এই খারাপ, তো কখন ওই খারাপ। ফলে ভোগান্তিও কম হয় না। তাই স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি হয়ে গিয়ে ছিল। ভোট বাজারে তারও স্বাস্থ্য সুরক্ষার উদ্যোগ নিল রাজ্য। কথা হচ্ছে, দুর্গাপুর ব্যারেজ নিয়ে। আজ থেকে শুরু হয়েছে 'বৃদ্ধ' ব্যারেজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা। সিমেন্টের ঢালাই অংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে। নাকাল হচ্ছে যাত্রীরা।
১৯৫৫ সালে পথ চলা শুরু হওয়ার পর ৬৬ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এটির পরীক্ষা তেমন ভাবে করা হয়নি। দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন ও রাজ্য সরকার ব্যারেজ দেখাশোনার ভূমিকায় থাকলেও সেটির স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখেনি। সরকার বদল হয়েছে, কিন্তু সেই মতো নজর না পড়ায় বয়সের ভারে রীতিমত খাবি খাচ্ছে ব্যারেজ। তবে দু'একবার অকেজো হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত সামনে এলেও, সেগুলি নামমাত্রই মেরামত হয়েছে।
গত ২০১৭ সালে ব্যারেজের ১ নম্বর লকগেট ভেঙে বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। জলের আকাল দেখা গিয়ে ছিল দুর্গাপুর শহরে। তখন মেরামত করার পর আর সেদিকে নজর রাখা হয়নি। ফলে দু'বছর বাদে গত ডিসেম্বরে ফের ভাঙে লকগেট। বেশ কয়েকদিন ধরেই ব্যারেজ থেকে জল বের হতে থাকে। ৩১ নম্বর লক গেট বেঁকে গিয়ে ঘটেছিল বিপত্তি। ব্যারেজের জল বেরিয়ে যাওয়ায় সাত দিন দুর্গাপুর শহর সহ বাঁকুড়া জেলায় ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ। শেষে কোনও ভেবে ঠেকানো হয়।
তাই বৃদ্ধের কোটায় চলে যাওয়া দুর্গাপুর ব্যারেজের কাজ চলবে এ মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত। সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ব্যারেজের সেতু। তাছাড়া ১৪ তারিখ গোটা দিনই বন্ধ থাকবে সেটি।
গোটা দক্ষিণ ভারত থেকে বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূমের ওপর থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে যোগাযোগের রাস্তা দুর্গাপুর ব্যারেজ ব্রিজ। দুর্ঘটনা এড়াতে তাই এতদিনে ব্রিজ ও ব্যারেজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সারানোর চেষ্টা চলছে। বিরোধীদের বক্তব্য, আগামী বিধানসভা নির্বাচনের কারণেই ব্যারেজ নিয়ে কাজ দেখাচ্ছে সরকার। কিন্তু সরকারি পক্ষ দুর্ঘটনার আশঙ্কার যুক্তিই খাড়া করেছে।
১৯৫২ সালে শুরু হয়েছিল ব্যারেজ নির্মাণের কাজ। ব্যারেজের দৈর্ঘ্য ৬৯২.২ মিটার, প্রস্থ ৬.৭০ মিটার। এই ব্যারেজের নিচের সিমেন্টের ঢালাই অংশ পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি তো হচ্ছেই। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে এখন সরকারকেই দুষছেন তারা।