
শেষ আপডেট: 24 September 2019 18:30
ফরিদপুরের ঝিঝারি গ্রামে প্রায় ২৫০ বছর আগে ঘটক পরিবারের পুজো শুরু হয়। দেশভাগের পরে যাদবপুর এলাকার রামগড়ে চলে আসে ওই পরিবার। তখন ১৯৪৭ সাল। প্রাচীন রীতি মেনে এ পার বাংলাতেই শুরু হয় পুজো।
এক চালার প্রতিমার পুজো হয় শাক্ত মতে। তিন দিনই পশুবলি হয়। ভোগে আমিষ পদও অপরিহার্য। এখনো দুই শতাব্দীর প্রাচীন নিয়ম মেনে পুজোর তিন দিনই বলি হয় মহামায়ার সামনে। এবং নিজের হাতে সেই বলি দেন পরিবারেই কোনও সদস্য। আরও একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে এই প্রতিমার সজ্জায়। প্রতিমার বাঁ দিকে থাকেন গণেশ এবং ডান দিকে কার্তিক। পরিবারের সদস্য প্রসেনজিৎ ঘটক জানিয়েছেন, দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা আত্মীয়স্বজনদের প্রায় সকলেই পুজোর সময়ে জড়ো হন রামগড়ের বাড়িতে।
ঘটক পরিবার ফরিদপুরের ঝিঝারিতে সংস্কৃত পণ্ডিতের পরিবার হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিল। পরে ঘটক উপাধি পান এই পরিবারের সদস্যেরা। এও শোনা গেছে, ঘটক বাড়ির উর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ বিধুভূষণ ঘটক সারদা মায়ের শিষ্য ছিলেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে গ্রামের বাড়িতেও গিয়েছিলেন সারদা। বিধুভূষণ স্বাধীনতা আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন। শোনা যায়, ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের তিনি সক্রিয় সদস্য ছিলেন। দেশ ভাগের পর ১৯৪৭ সালে ঘটক পরিবার পাকাপাকি ভাবে বসতি গড়ে তোলে কলকাতায়।
প্রসেনজিত বাবু জানিয়েছেন, রামগড়ের বাড়ির ঠাকুরদালানে ধূমধাম করে পুজোর আয়োজন করা হয়। আত্মীয়-স্বজন তো বটেই, বাইরে থেকেও লোকজনের ভিড় হয়। সকলকে পাত পেড়ে ভোগ খাওয়ানো হয়। প্রতিদিন দু'বেলা প্রায় আড়াইশো মানুষকে ভোগ খাওয়ানো হয়। ঘটক বাড়ির ভোগেরও একটা বিশেষত্ব আছে। প্রতিমাকে নিবেদন করা হয় আমিষ ভোগ। বিশেষত মাছ ভোগ নাকি ঘটক বাড়ির উমার বিশেষ পছন্দ। অতিথি অভ্যাগতদের পাতেও তাই মাছ ভোগই দেওয়া হয়।
ঘটক পরিবার জানিয়েছে, আড়াইশো বছর আগে পুজো যে সময় শুরু হয়েছিল, সেই সময়কার প্রাচীন পুঁথি, ভুর্জ ও তাল পাতাতে লেখা চণ্ডীর মন্ত্র আজও সংরক্ষিত আছে বাড়িতে। প্রাচীন রীতি ছিল, পুজোর ঠাকুর নয় বরং বাড়ির মেয়ে-বউরাই ভোগ রাঁধবেন। সেই রীতি আজও চলে আসছে। মেদিনীপুরের নিকুশিনী থেকে বংশানুক্রমিক ভাবে পুরোহিত আসছেন পুজো করতে। তন্ত্র মতে শাক্ত আরাধনা ঘটক বাড়ির পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজোর তালিকাতেও তাই বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে ঘটক বাড়ির দুর্গাপুজো।
