কোজাগরীর পরেই দুর্গাপুজো হয় বৈকুণ্ঠপুরের মহারাজঘাটে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবার নতুন করে দুর্গাপুজো শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গে, তিস্তার যে পারে ময়নাগুড়ি, তার অপর পারে, বৈকুণ্ঠপুর মহারাজ ঘাটে। তিন ধরে চলবে মেলা, চতুর্থ দিনে বিসর্জন।
শাস্ত্রমতে দুর্গাপুজোর বোধন হয় মহাষষ্ঠীতে, কৈলাশে উমা ফিরে যান বিজয়া
শেষ আপডেট: 19 October 2019 07:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবার নতুন করে দুর্গাপুজো শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গে, তিস্তার যে পারে ময়নাগুড়ি, তার অপর পারে, বৈকুণ্ঠপুর মহারাজ ঘাটে। তিন ধরে চলবে মেলা, চতুর্থ দিনে বিসর্জন।
শাস্ত্রমতে দুর্গাপুজোর বোধন হয় মহাষষ্ঠীতে, কৈলাশে উমা ফিরে যান বিজয়াদশমীতে। সেই নিয়মেই পুজো হয় বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িতে। বিজয়ার পরের দিন ময়নাগুড়িতে এক রাতের ভাণ্ডানী পুজো। তারপরে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। ঠিক তার পরের বৃহস্পতিবার বৈকুণ্ঠপুরের মহারাজ ঘাটে শুরু হয় দুর্গাপুজো।
দেবী দুর্গা মহিষাসুরমর্দিনী। গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও কার্তিক তো থাকেনই, আর থাকেন দেবী কালিকা। এটাই প্রথা। কোনও অলৌকিক ঘটনার জন্য নয়, গ্রামের মেয়েদের আব্দারে রাজার অনুমতি নিয়ে একশো তিরিশ বছর মতো আগে এই ভাবে পুজো শুরু হয়।
সেই সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল খুব খারাপ। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরে অনেক সময়ই গ্রামের মেয়েরা দুর্গাপুজোর সময় বাপের বাড়িতে আসতে পারতেন না। এলেও সকলে আসতে পারতেন না বলে ছেলেবেলার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হত না।
গ্রামের মেয়েরাই রাজার কাছে আব্দার করলেন, তাঁদের জন্য কিছু একটা করতে। বৈকুণ্ঠপুরের রাজা অনুমতি দিলেন লক্ষ্মীপুজোর পরের বৃহস্পতিবার পুজোর আয়োজন করতে, তা সে যে তিথিই হোক না কেন। সেই রীতি মেনেই বৈকুণ্ঠপুরের রাজঘাটে এখনও দুর্গাপুজো হয়।
পুজোয় একটা রীতি মানতে হয় সবব বিবাহিতাকেই। গ্রামের বাইরে যাঁদের বিয়ে হয়েছে, তাঁদের অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হয় এই পুজোয়। তাঁরা শুধু আসেন না, ছেলেবেলার বন্ধুদের সঙ্গে দে.খা করেন, মেলায় ঘোরেন। আর অবশ্যই নতুন পোশাক পরেন। পুজোয় যাঁর একটামাত্র শাড়ি হয়েছে, তিনি সেই শাড়ি শারদীয়া দুর্গাপুজোয় পরেন না, পরেন এই সময়।
মহারাজ ঘাটের আভারানি বারই দে বেলন, “দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোয় শ্বশুরবাড়ি থেকে এখানে আসা সম্ভব হয় না। তাই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর পরের দিনের দিকে তাকিয়ে আমরা বসে থাকি। বাড়িতে যেন শুধু ঘুমাতে যাওয়া। সারা দিন ধরে মেলায় ঘুরি, টুকটাক খাওয়াদাওয়া করতেই থাকি। সকলের সঙ্গে দেখা হয়। হইচই হয়। কথা হয় অনেক। ”
পুজো ও মেলা কমিটির সহসম্পাদক দীননাথ রায় জানান, “এবারে ১৩৮ বছরে পা দিল মহারাজ ঘাটের মেলা। এটা মেলা নয়, আসলে মিলন মেলা। আমাদের সমস্ত বাড়ির মেয়েরা এই সময় বাড়িতে এসে দারুন আনন্দ করে। ”এবারে মেলাতে পরিবেশ সচেতনতা ও সংরক্ষণ নিয়ে প্রচার করছেন উদ্যোক্তারা।
https://www.four.suk.1wp.in/pujomagazine2019/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b2-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-2/