দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবান্নের নির্দেশ মেনে কলকাতা পুরসভার প্রস্তুতি তুঙ্গে। আজ থেকে পরপর চারদিন বিসর্জন (durga idol
immersion) দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সরকার। সেই মতোই আজ, শুক্রবার কলকাতার বিভিন্ন বাড়ির প্রতিমা ও ছোট বারোয়ারি পুজোগুলির প্রতিমা বিসর্জন হবে। তার পরে শুরু হবে বড় পুজোগুলির ভাসান। এ জন্য ১৭টি ঘাটে প্রস্তুতি ও সতর্কতা সারা হয়েছে। বিসর্জনের দায়িত্বে কলকাতা পুরসভার তরফে রয়েছেন পুরপ্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য ও বিধায়ক দেবাশিস কুমার।
জানা গেছে, গঙ্গার তীরে হেস্টিংসে প্রতিমা বিসর্জনে দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চলেছে পুরসভা। মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, “হেস্টিংসে দই ঘাটের কাছে গঙ্গার ঘাটে গঙ্গাজল দিয়েই হোসপাইপ ব্যবহার করে প্রতিমা গলানোর উদ্যোগ নিয়েছি। বিসর্জনে দূষণ নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পরেই এই চিন্তা।”
পাশাপাশি, নিমতলা ঘাট, বাজে কদমতলা ঘাট, গোয়ালিয়র ঘাট ও বিচালি ঘাটের আশপাশে পুলিশের চারটি যন্ত্রচালিত নৌকাও থাকছে। এই নৌকায় থাকা কর্মীরা প্রতিমার কাঠামো টেনে নেবেন, যাতে পরের প্রতিমা বিসর্জন দিতে সমস্যা না হয়।
পুজোর পর ধেয়ে আসছে জোড়া নিম্নচাপ, দ্বাদশী থেকেই দুর্যোগ শুরু দক্ষিণবঙ্গে
আজই দুপুর বারোটার পর থেকে শুরু হবে বিসর্জন। প্রথমদিনই দেড় হাজারের বেশি প্রতিমা গঙ্গায় বিসর্জন হওয়ার কথা। জাজেস ঘাট, বাজে কদমতলা ঘাট, দই ঘাট-- অর্থাৎ যে ঘাটগুলিতে সবচেয়ে বেশি ভিড় হওয়ার কথা, সেখানে পুলিশ, পুরকর্মীরা ৫ হাজারেরও বেশি সংখ্যায় মোতায়েন থাকবেন। থাকবে রিভার ট্রাফিক গার্ড ও বিপর্যয় মোকাবিলা টিম। গঙ্গাবক্ষে স্পিড বোটেও চলবে নজরদারি। পাড়ে রাখা থাকবে ক্রেনও। ওয়াচ টাওয়ার থেকেও চলবে প্রহরা।
করোনা-সংক্রমণের সতর্কতা ও বিধিও পুরোপুরি পালন করা হবে বলেই জানিয়েছে পুরসভা। বিসর্জনে যোগ দেওয়া সকলের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। নির্দিষ্ট কয়েকজনকেই ঘাট চত্বরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে। প্রতিমার জন্য গাড়ির সংখ্যাও নির্দিষ্ট। ডিজে অথবা মাইক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষিদ্ধ কোনও বাজিও পোড়ানো যাবে না।
গঙ্গার ঘাটগুলি ছাড়াও দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুরের লায়েলকা পুকুর, পাটুলির পাটুলি পুকুর, হরিদেবপুরের ইটখোলা পুকুর, সরশুনা ঝিল, মুকুন্দপুর পুকুরে বিসর্জন হবে।