
শেষ আপডেট: 16 September 2022 12:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: পুজোর (Durga Pujo 2022) বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। এমন সময়ে খাওয়া দাওয়ার সময় নেই হাওড়ার (Howrah) জগৎবল্লভপুর পার্বতীপুর গ্রামের মুসলমান মহল্লায়। কোনও ঘরে চলছে পাট ধোয়ার কাজ, কোথাও আবার হচ্ছে সেইসব পাটে কালো রঙ করার কাজ। সবমিলিয়ে খুবই ব্যস্ত এই গ্রামের বাসিন্দারা।
হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন, দুর্গা প্রতিমা ও অন্যান্য দেবদেবীর পরচুলা (Wig) তৈরি হয় এই গ্রামের ঘরে ঘরে। গ্রামের প্রায় পঞ্চাশটি মুসলমান পরিবার এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। দিনরাত এক করে তাঁরা শুধু প্রতিমার মাথার চুল তৈরি করে যাচ্ছেন। দুর্গাপুজোর আগে পার্বতীপুর গ্রামে এলে দেখা যায় সম্প্রীতির এক অনন্য নজির।
গ্রাম বাসিন্দাদের কথায়, হুগলির মশাট, শিয়াখালার মতো জায়গা থেকে কাঁচা পাট নিয়ে আসা হয়। তার পর সেই পাট পরিষ্কার করে ধোয়া হয়। সেই পাটের ওপর কালো রং চাপানো হয়। তার পর সেই পাটের বাড়তি রোম ফেলে সেগুলি পাট কাঠিতে জড়িয়ে প্যাকেট করে চলে যায় বিভিন্ন দোকান হয়ে প্রতিমা শিল্পীদের কাছে।
এভাবেই নানান মাপের নকল চুল থরথরে তৈরি হচ্ছে মুসলমান মহল্লায়। সারা বছরই এখানে কাজ চলে। তবে দুর্গাপুজোর আগে সেই কাজের ব্যস্ততা বাড়ে। এই গ্রামের এক কর্মীর কথায়, বাবা-কাকার আমল থেকে এই কাজ শিখে এসেছেন। করোনার সময় কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তখন খুবই সমস্যা হয়েছিল। তবে এবছর ব্যবসা আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। চাহিদা বেড়েছে।
কিন্তু, চাহিদা বাড়লেও লাভের মুখ কি সেভাবে দেখা যাবে? গ্রামবাসীদের কথায়, চুল তৈরি করতে যে যে উপকরণ লাগে তার দাম বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় দাম বাড়াতে পারেনি তাঁরা। তাছাড়া এই ব্যবসায় লোন মেলে না। ব্যবসা বাড়াতে পুঁজির প্রয়োজন। কিন্তু সেই পুঁজি জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের।
তাই তাঁদের কাতর আবেদন, যদি সরকার পাশে থাকে তাহলে সমস্যা কমবে। বড়গাছিয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েতের প্রধান তনুশ্রী দাস জানান যে, তাঁরা এবিষয়ে ভাবনা চিন্তা করেছেন। একটা জায়গা খোঁজা হচ্ছে যেখানে সবাই কাজ করতে পারবেন। আসলে একটা সিস্টেমের মধ্যে এই শিল্পকে নিয়ে আসার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
দুর্গাপুজোয় ভোররাত পর্যন্ত মেট্রো, পাল্টাচ্ছে সূচি, জেনে নিন খুঁটিনাটি