
শেষ আপডেট: 19 June 2023 12:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: দলের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার ডাক পেয়ে সিঙ্গুর পঞ্চায়েত সমিতির ৩ নম্বর আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এরপরেও কেন তাঁকে দলের প্রার্থী করা হল না তা নিয়ে নেত্রীকে খোলা চিঠি লিখলেন সিঙ্গুর জমি আন্দোলনের অন্যতম মুখ তথা সিঙ্গুর পঞ্চায়েত সমিতির বিদায়ী কর্মাধ্যক্ষ দুধকুমার ধারা। তাঁর দাবি, তাঁর জায়গাতেই প্রার্থী করা হয়েছে সিঙ্গুর জমি আন্দোলনের আরেক মুখ, হুগলি জেলা পরিষদের বিদায়ী কর্মাধ্যক্ষ মানিক দাসকে।
রাগে ক্ষোভে মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক মাধ্যমে লেখা তাঁর খোলা চিঠি নিয়ে শোরগোল হুগলির রাজনৈতিক মহলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সিঙ্গুরের কৃষক নেতা দুধকুমার ধাড়া সিঙ্গুর কৃষক আন্দোলনে তার অবদানের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রীকে লিখেছেন, "নিষ্ঠার সাথে সততা নিয়ে এত বছর দল করে চলেছি। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে এখন আমি কী করব, আপনি বলুন। বড় মানসিক যন্ত্রনায় আছি। এত বড় অপমান সহ্য করতে পারছি না।’’

একটি প্রার্থী তালিকা দেখিয়ে সিঙ্গুরের খাসেরভেড়ি এলাকার কৃষক নেতা দুধকুমার ধাড়া সোমবার বলেন, ‘‘আমার বুকে কেন ছুরি মারা হল। তার নিজের আত্মীয়া পঞ্চায়েতে প্রার্থী, সে আবার পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী। আমার এখানে যে ১ নম্বর হয়েছিল তাঁকে টিকিট দেওয়া হয়নি। সেটা আমি মেনে নিয়েছি। তবুও কেন আমাকে প্রার্থী করা হল না। তাহলে পিছনে কোন রাজনৈতিক চক্রান্ত চলছে আমার সততাকে ধ্বংস করার জন্য? সততাকে পিছন থেকে ছুরি মারার জন্যচ? আমার প্রিয় নেতা বেচারাম মান্না বলেছেন তিনি নেত্রীর নির্দেশে পিওনের কাজ করছেন।’’
সিঙ্গুর পঞ্চায়েত সমিতির ৩ নম্বর আসনে দুধকুমার ধাড়া যেখানে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, সেই একই কেন্দ্রে মনোনয়ন জমা দেওয়া হুগলি জেলা পরিষদের বিদায়ী কর্মাধ্যক্ষ তথা সিঙ্গুর জমি আন্দোলনের অন্যতম আরেক নেতা মানিকচন্দ্র দাস জানান, কারও বিরুদ্ধে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘‘উনি টিকিট পেয়েছিলেন তা আমার জানা ছিল না। আগে থেকে কেউই জানত না, কে কোথায় টিকিট পাবে? দল যেটা ভালো মনে করেছে সেটা করেছে। আমিও ভেবেছিলাম জেলা পরিষদে টিকিট পাব। কিন্তু দল দেয়নি। তাতে আমার কিছু আপত্তি নেই। আর উনি যে টিকিট পেয়ে তা বাতিল হয়ে গেছে সেটা আমি কী করে জানব?’’
সিঙ্গুরের বিধায়ক বেচারাম মান্নার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি। তবে এ বিষয়ে হুগলি শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অরিন্দম গুইন বলেন, ‘‘যিনি প্রার্থী হয়েছেন দলের সিদ্ধান্তেই প্রার্থী হয়েছেন। এখান থেকে আমাদের প্রার্থী করার ক্ষমতা নেই। আমরা এখান থেকে প্রস্তাব দিতে পারি। প্রার্থী করার দায়িত্ব রাজ্য নেতৃত্বের। কাজেই রাজ্য নেতৃত্ব যাকে মনে করেছে প্রার্থী করেছে। যাকে মনে করেনি, প্রার্থী করেনি। আবার রাজ্য নেতৃত্ব যদি মনে করে কাউকে প্রয়োজন আছে, তাকে দলের অন্য কোনও কাজে পরে অবশ্যই ব্যবহার করবে। এটা সম্পূর্ণ দলীয় সিদ্ধান্ত। কারও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়"।
সাদা থান দিতে এসে পিছু হটল দুষ্কৃতীরা, হুগলিতে প্রতিরোধ গ্রামবাসীদের