
শেষ আপডেট: 11 January 2024 22:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকাদের কাছে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, বোর্ডের তরফে দেওয়া ফরম্যাট ১০ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপারে ছাপিয়ে নিয়ে তাতে প্রধান শিক্ষক, শিক্ষিকাদের সই করে অবিলম্বে পর্ষদে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। যা মানতে চাইছেন না অধিকাংশ স্কুলের প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকারা। বিষয়টি নিয়ে পর্ষদের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একাংশও। পর্ষদের নির্দেশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে শিক্ষক সংগঠন এবিটিএ।
তাঁদের বক্তব্য, এভাবে নির্দেশিকা জারি করে কার্যত জোর করে লিখিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে যে স্কুলে একজনও ড্রপ আউট পডুয়া নেই। এই প্রবণতা সামগ্রিকভাবে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
কী রয়েছে নির্দেশিকায়?
জলপাইগুড়ি অরবিন্দ মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক ক্ষৌণিশ গুহ, জলপাইগুড়ি কদমতলা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রীতা রায় সেনগুপ্তরা বলেন, নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যারা বর্তমান ক্লাস নাইনে পড়ছে এবং যারা আগামী ২০২৫ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য রেজিষ্ট্রেশন করিয়েছে তাঁদের বাইরে আর কোনও ছাত্র-ছা্ত্রী নবম শ্রেণিতে পাঠরত নেই। অর্থাৎ যার মূল অর্থ কোনও ড্রপ আউট নেই।
এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছে জলপাইগুড়ির বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন এবিটিএ। তাঁদের সাফ দাবি এই ফতেয়া অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
সংগঠনের জেলা সম্পাদক প্রসেনজিৎ রায় বলেন, "ড্রপ আউট এবং শিক্ষা দুর্নীতি থেকে নজর ঘোরাতে এই মুচলেকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা ড্রপ আউট পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখেছি এরা পেটের তাগিদে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছে। এদের শিক্ষাঙ্গনে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হওয়ার পরিবর্তে পর্ষদ পুরো বিষয়টাকে খাতায় কলমে লুকিয়ে ফেলতে চাইছে। এই জিনিস আমরা মানব না।"
শিক্ষক সংগঠন এবং প্রধান শিক্ষকদের একাংশের আপত্তির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন জলপাইগুড়ির ডি আই বালিকা গোলে। তিনি জানিয়েছেন বোর্ডের তরফে ক্লাস নাইনের পড়ুয়াদের মাধ্যমিক রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে একটি নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। যা এবিটিএ মানতে চাইছে না। স্মারকলিপি দিয়েছে। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।"