শেষ আপডেট: 11 December 2019 07:04
এই শিবিরে ছাত্রছাত্রীরা এনেছে কুয়ো, পুকুর, নদী ও পুরসভার সরবরাহ করা জল। কেউ কেউ আবার জল কিনেও এনেছে। সেইসব জলই পরীক্ষা করা হল সর্বসমক্ষে। তাতে দেখা গেল, সেই পরীক্ষায় পুরসভার সরবরাহ করা জল সেই পরীক্ষায় পাশ করলেও পাশ করতে পারেনি বোতলবন্দি জল। সেই জলে অম্লের (অ্যাসিড) মাত্রা বেশি বলে অভিযোগ।
স্কুলের শিক্ষিকা সোমা চক্রবর্তী বলেন, “পড়ুয়ারা ও তাদের এলাকার লোকজন পান ও স্নান করার জন্য যে জল ব্যবহার করছেন, তার গুণগত মান কেমন এবং কী ভাবে তাঁরা জল সংরক্ষণ করতে পারেন তা হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে।”
স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষিকা বিদিশা রায় বলেন, “পড়ুয়াদের আনা বিভিন্ন জল পরীক্ষার পর দেখা গেল, তারা বাড়িতে যে বোতলবন্দি জল কিনে খায় তার গুণগত মান খারাপ। তাতে অ্যাসিডের মাত্রা বেশি রয়েছে। অ্যাডমিরাল নামে একটি ব্র্যান্ডের জল আমরা স্কুলেও কিনে খাই। তা পরীক্ষা করে দেখা গেছে তাতে অ্যাসিডের মাত্রা বেশি। আমরা এই রিপোর্ট প্রধান শিক্ষকের কাছে পাঠাব এবং তাঁর মাধ্যমেই অনুরোধ করব যাতে ওই সংস্থাটি প্রশম (যে জল অম্লও নয়, ক্ষারীয়ও নয়) জল সরবরাহ করে।” জলের অন্য কোনও গুণমান নয়, শুধুমাত্র অম্লতা ও ক্ষারের মাত্রাই নির্ধারণ করা হয়েছে পরীক্ষাগারে।
যে জলে অম্লের মাত্রা বেশি সেই জল নিয়মিত ভাবে পান করলে দাঁত ও হাড়ের ক্ষতি হতে পারে, রক্তে পিএইচ মাত্রা ৭.৫ থাকে যা সামান্য ক্ষারকীয়, সেই ভারসাম্যও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পিএইচ (pH) মানে হল কোনও দ্রবণে অম্ল ও ক্ষারের ভারসাম্য। এই মাত্রা ৭ থাকার অর্থ হল সেই দ্রবণ পুরোপুরি প্রশম। ৭-র থেকে মাত্রা যত বেশি হবে দ্রবণ তত ক্ষারকীয় হবে, যত কম হবে দ্রবণ তত অম্ল। মাত্রা শূন্য হওয়ার অর্থ সেটি তীব্র অম্ল, ১৪ হওয়ার অর্থ সেটি তীব্র ক্ষার।
অ্যালমিরাল নামে পানীয় জল সরবরাহকারী সংস্থাটির জলে পিএইচ-এর মাত্রা ৭-এর সামান্য কম। ওই সংস্থাটি দাবি করেছে, পানীয় জলে পিএইচের মাত্রা ৬.৫ থেকে ৮.৫ পর্যন্ত থাকলে সেটিকে সহনীয় বলে ধরা হয়। এ ব্যাপারে তারা তাদের সর্বশেষ রিপোর্টটিও পাঠিয়েছে। সেই রিপোর্টি জলপাইগুড়ি বিভাগের জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের মুখ্য ইঞ্জিনিয়ারের দফতর থেকে দেওয়া হয়েছে। তবে সংস্থার কর্ণধার টেলিফোনে জানিয়েছেন, স্কুল থেকে এ ব্যাপারে কোনও রিপোর্ট তাঁরা পেলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক ক্ষৌনিশ গুহ বলেন, “পরীক্ষার রিপোর্ট আমি পেয়েছি। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা উচিত নয়। আমি এই রিপোর্ট পুরসভাকে জানাব, আমাদের রিপোর্ট পাঠাব সংশ্লিষ্ট জল সরবরাহকারী সংসস্থাকেও।
জলপাইগুড়ির উপ-পুরপ্রধান পাপিয়া পাল টেলিফোনে বলেন, “স্কুল রিপোর্ট দিলে আমরা পুরসভার নির্দিষ্ট বিভাগের সঙ্গে কথা বলে যা করণীয় তা অবশ্যই করব।”