সিএএ-বিরোধী মিছিলে বিতর্কিত মন্তব্য, হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ, গ্রেফতার ডাক্তার কাফিল খান
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করায় এবার গ্রেফতার হতে হল ডাক্তার কাফিল খানকে। ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের বিআরডি মেডিক্যাল কলেজে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল কাফিলকে। সেই অভিযোগ থেকে রেহা
শেষ আপডেট: 29 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করায় এবার গ্রেফতার হতে হল ডাক্তার কাফিল খানকে। ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের বিআরডি মেডিক্যাল কলেজে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল কাফিলকে। সেই অভিযোগ থেকে রেহাই মিললেও ফের বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন তিনি। কাফিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএএ নিয়ে বিক্ষোভের সময় হিংসা ছড়াতে মদত দিয়েছিলেন তিনি। সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
মুম্বই বিমানবন্দর থেকে ডাক্তার কাফিল খানকে গ্রেফতার করা হয় বুধবার রাতেই। মুম্বই পুলিশের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। সূত্রের খবর, মুম্বইতে সিএএ বিরোধী প্রতিবাদ-আন্দোলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। তখনই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মুম্বই পুলিশের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, সিভিল লাইন থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে ডাক্তার কাফিল খানের বিরুদ্ধে। সিএএ নিয়ে হিংসা ছড়ানোয় মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক পঞ্জীর (এনআরসি) বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন জ্বলেছিল আলিগড় মুসলিম বিদ্যালয়ে। দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন আলিগড়ের পড়ুয়ারা। বিক্ষোভকারী পড়ুয়া ও পুলিশের খণ্ডযুদ্ধে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কলেজ চত্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে জমায়েত হওয়া কয়েকশো প্রতিবাদী ছাত্রের উপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসও। চালানো হয় জলকামান। আটক করা হয় কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী পড়ুয়াকে। অভিযোগ এই বিক্ষোভের সময় সেখানে হাজির ছিলেন ডাক্তার কাফিল খান। ধর্মীয় উস্কানিমূলক এমন কিছু কথা নাকি তিনি বলেন, যাতে হিংসার পরিবেশ তৈরি হয়। সূত্রের খবর, ১৩ ডিসেম্বর এফআইআর করা হয়েছিল ডাক্তারের বিরুদ্ধে।
প্রশ্ন উঠেছে, ডিসেম্বরেই যদি এফআইআর দায়ের করা হয়, তাহলে এতদিন কী করছিল পুলিশ? এত দেরিতেই বা কেন গ্রেফতার করা হল ডাক্তার কাফিল খানকে।
২০১৭ সালের ১০ এবং ১১ সেপ্টেম্বর বিআরডি হাসপাতালে ৬০-এর বেশি শিশুর মৃত্যু ঘটেছিল। বিআরডি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনার পর প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছিল উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার। আর সমস্ত বিপর্যয়ের জন্য কাফিল খানকেই কাঠগড়ায় তোলা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, অক্সিজেনের যে অভাব ঘটতে পারে তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাননি তিনি। সেই সময় তড়িঘড়ি সাসপেন্ড করা হয় কাফিল খানকে। তার কিছু দিনের মধ্যে গ্রেফতারও করা হয় তাঁকে। কাফিল খান-সহ ন’জনে বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। ওই ঘটনার তদন্তে গত বছর তাঁকে ‘ক্লিনচিট’ দেয় উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়।