
শেষ আপডেট: 6 October 2023 08:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোর সময়ে ও পরে বাঙালির সিকিমে বেড়াতে যাওয়া প্ল্যান যে ধাক্কা খেল তা দু’দিন আগেই ট্যুর অপারেটেরদের সঙ্গে কথা বলে লেখা হয়েছিল দ্য ওয়ালে। এবার সরকারিভাবে রাজ্যের প্রেম সিং তামাং সরকার সতর্ক করল পর্যটকদের। সিকিম সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এখন সে রাজ্যে ঘুরতে যাওয়া একেবারেই ঠিক হবে না। বিপদের ঝুঁকি রয়েছে।
বিপর্যয়ের জেরে এখন লন্ডভন্ড হয়ে রয়েছে হিমালয়ের কোলের এ রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গ থেকেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পর্যটক যায় সিকিমে। কত শত বাঙালির সিকিমের জন্য পুজোর ভ্রমনের টিকিট কাটা রয়েছে ইয়ত্তা নেই। কিন্তু বৃহস্পতিবার সিকিমের পর্যটন দফতরের তরফে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এখন যাঁরা সিকিমে বেড়াতে আসার পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা যেন তা বাতিল করেন। যেভাবে চারিদিক লন্ডভন্ড হয়ে রয়েছে, তাতে পর্যটকদের জন্য এখন অনুকূল পরিস্থিতি নেই। ছাংগু এবং নাথুলায় যাওয়ার উপরেও অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সিকিম সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা অনিবার্যই ছিল। ইতিমধ্যে অনেকেই বুকিং ক্যানসেল করতে শুরু করেছেন। শুক্রবার থেকে আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। পর্যটন দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে। তেমন সুবিধাজনক পরিস্থিতি থাকলে উত্তর সিকিমের লাচেন, লাচুং সহ এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের কপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধারের কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যে সেখানে সেনা বাহিনী পৌঁছে গেছে।
হিমবাহ- হ্রদ বিপর্যয়ে উত্তর সিকিম এখন কার্যত বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। সেখানে জল বা বিদ্যুতের সরবরাহ নেই। চরম অসহায় অবস্থায় হোটেলে আটকে রয়েছেন পর্যটকরা। মোবাইলের নেটওয়ার্ক না থাকায় তাঁরা যোগাযোগও করতে পারছেন না।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার লাচেনের কাছে ছাতেন এলাকায় ভ্রাম্যমান স্যাটেলাইট ফোন পরিষেবা চালু করেছে সেনাবাহিনী। পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য পর্যটকদের এক-দু’মিনিট করে সময় বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকার সবাইকে আতঙ্ক ছড়াতে নিষেধ করছে। কারণ, লাচেন ও লাচুংয়ে আটকে থাকা সমস্ত পর্যটক সুরক্ষিত রয়েছেন।
সিকিমে প্রায় ৩ হাজার পর্যটক আটকে পড়েছিলেন। তাঁদের অনেকে এখন গ্যাংটক থেকে রানিপুল, পেডং, লাভা, গোরুবাথান হয়ে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন। মওকা বুঝে ভাড়া গাড়ি ইচ্ছা মতো দর হাঁকতে শুরু করেছে। কোনও কোনও গাড়ি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া নিচ্ছে। তবে সিকিম সরকার স্পষ্ট নির্দেশ জারি করে বলেছে, কোনও গাড়িচালক যেন বাড়তি ভাড়া না নেন। ঋষি ও লাভা হয়ে দ্রুত বিকল্প রাস্তা খুলে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।