
শেষ আপডেট: 22 June 2023 07:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহার ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। বুধবারের পঞ্চায়েত মামলার শুনানিতে তিনি রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে বলেন, আপনি দায়িত্ব সামলাতে না পারলে ছেড়ে দিন। রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিন। রাতে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের জয়েনিং লেটার ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে রাজভবন সূত্রের খবর।
পশ্চিমবঙ্গে এমন অভূতপূর্ব সাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক সংকটের নজির নেই। গোটা দেশেও বিরল। প্রশ্ন হল, পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াচ্ছে? সংবিধান ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশনার নিজের সম্মান রক্ষায় পদত্যাগ করে সরে না গেলে তাঁকে অপসারণ করা কঠিন।
বছর কয়েক আগে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের পদে ছিলেন সুশান্ত উপাধ্যায়। পুরভোটে তাঁর নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তে বেজায় চটেছিল শাসক দল তৃণমূল। রাজের মন্ত্রীরা পর্যন্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশন অফিস ঘেরাও করেন। এরপর সুশান্ত রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র দিয়ে আসেন। পুরভোটের মাঝপথে কমিশনার পদত্যাগ করায় বাকি সময়ের জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনার করা হয় আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
দেশে আর একটি মাত্র রাজ্যে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার মাঝপথে বদলের নজির আছে। সেটি হল ছোট রাজ্য গোয়া। তা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা এখনও সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন।
তবে সাংবিধানিক বিধান হল, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সহ তিন কমিশনার এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনারেরা যথাক্রমে সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের বিচারপতির পদমর্যাদা পেয়ে থাকেন। তাঁদের পদ থেকে সরানোর নিয়মও বিচারপতিদের অপসারণের মতোই একই নিয়ম। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির নির্দেশ সংসদের দুই কক্ষে নিন্দা প্রস্তাব দুই তৃতীয়াংশ ভোটে পাশ করাতে হবে। সেই পর্ব মিটলে তবেই রাষ্ট্রপতি বিচারপতি বা কমিশনারকে অপসারণের নির্দেশ দিতে পারেন। বছর দশ-পনেরো আগে এই নিয়ম মেনেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি তথা কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি সৌমিত্র সেনকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়, যাকে আইন ও সংবিধানের ভাষায় বলা হয় ইমপিচমেন্ট, অর্থাৎ নিন্দা করা।
তবে বিষয়টি মোটেই সহজ নয়। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব গেলেই তিনি তা সংসদের বিবেচনার জন্য পাঠান না। প্রাথমিক অনুসন্ধানের জন্য বিচারপতিদের কমিটিকেই দায়িত্ব দেওয়া হয় অভিযোগের সত্যাসত্য যাচাই করতে।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রে রাজ্যপাল নিজেই রাষ্ট্রপতির কাছে অপসারণের প্রস্তাব পাঠাতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাঁর হাতিয়ার হতে পারে দুটি। এক. কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির বক্তব্য। যদিও রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের নিরপেক্ষতা এবং দক্ষতা নিয়ে তাঁর বক্তব্য বিচার বিভাগের ভাষায় পর্যবেক্ষণ, সিদ্ধান্ত বা নির্দেশ নয়। দুই. গত শনিবার রাজ্যপাল তলব করা সত্ত্বেও রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজভবনে যাননি। যদিও কমিশনার ফোনে রাজ্যপালকে জানিয়েছিলেন তিনি খুবই ব্যস্ত। ব্যস্ততা কাটিয়ে উঠলে রাজ্যপালের সময় সুযোগ মতো তিনি রাজভবনে যাবেন।
অনেকেই কমিশনারের এই আচরণকে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধানের অবমাননা বলে মনে করেন। তবে সেটা অপসারণের সুপারিশ করার মতো গুরুতর অপরাধ বলেও মনে করা হচ্ছে না। যদিও কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের তোলা অভিযোগকে হাতিয়ার করতে পারেন রাজ্যপাল। তবে অনেকেই মনে করেন সেটা ইমপিচ এবং অপসারণের জন্য যথেষ্ট নয়।
ফলে প্রশ্ন এখন দুটি, নিজের সম্মান রাখতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা কি পূর্বসূরি সুশান্ত উপাধ্যায়ের মতো নিজে থেকে সরে যাবেন। নাকি রাজ্যপাল তাঁকে অপসারণের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবেন। দ্বিতীয়টি করলে অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি হবে ঠিকই। কিন্তু কমিশনারের দায়িত্ব পালন করে যেতে পারবেন রাজীব। যদিও সেই পরিস্থিতি সাংবিধানিক পদে আসীন কারও জন্যই সুখকর হবে না। অনেকেই মনে করছেন, রাজীবের জয়েনিং লেটার ফিরিয়ে দিয়ে রাজ্যপাল আসলে চাপের খেলা শুরু করেছেন।
তৃণমূল ওয়াকওভার দিল উত্তর দিনাজপুরের অনেক আসনে, করিমের এলাকায় সমিতির মাঠ ফাঁকা