দ্য ওয়াল ব্যুরো, বর্ধমান: টিভিতে তিনি এমন মশগুল যে শত অনুরোধেও রোগী দেখতে যাননি, উপসর্গ শুনে লিখে দিয়েছেন ওষুধ। যন্ত্রণায় কাতর রোগীর মৃত্যু হতেই তিনি পলাতক। এমনই অভিযোগ উঠেছে কালনা মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক দিব্যেন্দু মহাজনের বিরুদ্ধে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কালনার মেমারির কিশোর দাস (৩৪) পেটের যন্ত্রণা ও জ্বর নিয়ে শনিবার ভর্তি হন কালনা হাসপাতালে। তিনি বমিও করছিলেন। হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী সোমা। সোমার বয়ান অনুযায়ী, রাতে তিনি হাসপাতালেই ছিলেন। পেটের যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন কিশোর। কর্তব্যরত নার্সরা তাঁকে বলে দেন কোন ঘরে গেলে দেখা পাওয়া যাবে চিকিৎসকের।
সোমা চিকিৎসকের কাছে গিয়ে কিশোরকে দেখার জন্য অনুরোধ করেন। তাঁর অভিযোগ, তখন টিভিতে একটি সিনেমা দেখছিলেন চিকিৎসক দিব্যেন্দু মহাজন। তিনি একটি ট্যাবলেট লিখে কর্তব্য সেরে ফেলেন। কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কিশোরের অবস্থার উন্নতি দূরে থাক, অবনতি হতে থাকে।
স্বামীর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে ফের ওই চিকিৎসকের কাছে যান সোমা। প্রথমে কাতর আবেদন, শেষে তাঁর হাতে-পায়ে ধরে একবার অসুস্থ স্বামীকে দেখার অনুরোধ করেন। অভিযোগ, তাতে কর্ণপাতই করেননি ওই চিকিৎসক। ভোরের দিকে কিশোরের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে টনক নড়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকের। তখন তিনি একটি ইঞ্জেকশন দেন। তবে কিছুক্ষণ বাদেই মারা যান কিশোর।
কিশোরের মৃত্যুর খবর পেয়েই হাসপাতালে চলে আসেন তাঁর আত্মীয়রা। অভিযুক্ত চিকিৎসকের খোঁজে শুরু হয় তাণ্ডব। চিকিৎসককে খুঁজে না পেলে শুরু হয় বিক্ষোভ। সময়মতো এসে পরিস্থিতি সামাল দেয় কালনা থানার পুলিশ।
সোমা দাস বলেন, “বারবার ডাকা সত্ত্বেও ডাক্তারবাবু আসেননি। এলে আমার সিঁথির সিঁদুর আজ মুছে যেত না। ” হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণচন্দ্র গড়াই না থাকায় রোগীর পরিবার তাঁর কাছে কোনও অভিযোগ জানাতে পারেননি। কৃষ্ণচন্দ্র গড়াই বলেন, “রাতে হাসপাতালে সামান্য বিশৃঙ্খলা হয়েছিল, পরে তা মিটে যায়। হাসপাতালের টিকিটঘরে কোনও টিভি নেই, আছে প্রয়োজনীয় কম্পিউটার। চিকিৎসকরা সাধ্যমতো কাজ করেছেন, রোগীর মৃত্যুর ব্যাপারে এখনও কোনও অভিযোগ পাইনি। পেলে তা খতিয়ে দেখা হবে। ”
https://www.four.suk.1wp.in/pujomagazine2019/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%aa%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a6%be/