
শেষ আপডেট: 24 May 2019 18:30
"শিশুটির প্রাণ বাঁচানোই আমাদের একমাত্র কর্তব্য বলে মনে হয়েছে। আর এই কাজে যিনি মুখ্য ভূমিকা নিয়েছেন তিনি চিকিৎসক পবিত্র রায়। মেয়েটিকে নতুন জীবন দিয়েছেন তিনি," বলেছেন হাসপাতাল সুপার চিন্ময় বর্মন।
ক্র্যানিওটমির সাহায্যে মেয়েটির মাথা থেকে ওই পাঁচ ইঞ্চির পেরেক বার করা হয়েছে, জানিয়েছেন চিকিৎসক পবিত্র রায়। তাঁর কথায়, এই ধরনের জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য বিশেষ যন্ত্রপাতি ও পরিকাঠামর দরকার হয়। সেটা জেলা হাসপাতালে সাধারণত থাকে না। অথচ মেয়েটিকে বাঁচাতে এই অস্ত্রোপচার জরুরি হয়ে পড়েছিল।
পবিত্রবাবু জানিয়েছেন, ক্র্যানিওটমির সাহায্যে মস্তিষ্কের হাড়ের অংশ বাইরে বার করে এনে ভিতরের ক্ষত সারানো হয়। ফের সেই হাড় পুনস্থাপন করা হয়। এই ভাবেই পেরেকটা বার করা হয়েছে মেয়েটির মাথা থেকে। তিনি জানান, দক্ষ নিউরোসার্জন ছাড়া ক্র্যানিওটমি করা যথেষ্টই ঝুঁকির কাজ। সাধারণত মস্তিষ্কের টিউমার, হেমাটোমাস (ব্লাড ক্লট বা রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া) সাড়াতে ক্র্যানিওটমি করা হয়। তা ছাড়া মাথা থেকে গুলি বা যে কোনও Foreign Object বার করতে বা মাথায় গুরুতর চোট লাগলেও ক্র্যানিওটমি করেন চিকিৎসকরা। পবিত্রবাবুর কথায়, যতই বিপদের আশঙ্কা থাক, মেয়েটিকে বাঁচানোটাই তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল।
স্নায়ু শক্ত রেখে এই অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন পবিত্রবাবু। বলেছেন, "অবশ না করেই ক্র্যানিওটমি করতে হয়েছে। যেহেতু মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার, তাই সব সময় আমাকে খেয়াল রাখতে হয়েছে মেয়েটির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের চলাচল ঠিক রয়েছে কি না। প্রতিটা অঙ্গ সচল থাকলেই বোঝা যাবে মস্তিষ্কের ঠিক কোন অংশে ক্ষত রয়েছে। সেই ভাবে এগোবে অস্ত্রোপচারের প্রতিটা ধাপ। " মেয়েটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ বলে জানিয়েছেন তিনি। ভর্তি রয়েছে সিসিইউতে।
আলিপুরদুয়ার জেলার শামুকতলা থানার ময়নাবাড়ি এলাকায় বাড়ি মারিয়ানির। কী ভাবে এত বড় পেরেক তার মাথায় ঢুকল সেটা ঠিক করে বলতে পারেননি তার বাবা, মাও। হাসপাতাল সুপার জানিয়েছেন, শুধু আলিপুরদুয়ার জেলা সদর হাসপাতালই নয়, চিকিৎসক পবিত্র রায়ও প্রথমবার মস্তিষ্কের এই জটিল অস্ত্রোপচার করেন। তাই স্বাভাবিক ভাবেই আলিপুরদুয়ারের এই হাসপাতালের কাছে এটা ঐতিহাসিক ঘটনা।