
শেষ আপডেট: 2 July 2019 10:54
কাকদ্বীপেরও প্রত্যন্ত এলাকা বামুনের মোড়। সেখানে টালির চালের নীচে চিলতে ঘরে বাস দেবরাজের। পরিবারে রয়েছেন মা, বাবা, ভাই, স্ত্রী, ও সন্তান। পরিবারের বড় ছেলে তিনি। তাই সংসারের জোয়ালটা কাঁধে চেপে বসেছিল বেশ ছোটতেই। ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পেরেছেন। তারপর ইতি টানতে হয়। আগে ট্রেনে হকারি করতেন। পরে কিছু টাকা জমিয়ে ভ্যান রিক্সা কিনে, তা চালানো শুরু।
এত কিছুর পরেও কিন্তু শিল্পী মনটা অটুট। রঙ-তুলির অমোঘ আকর্ষণে যে ভাবে সাড়া দেয় মন, আর কিছুতেই তেমন করে নয়। তাই কাজের শেষে ছুটি মিললেই বসে পড়েন ক্যানভাস নিয়ে। স্বপ্ন-কল্পনার তখন অবাধ পাখা মেলার সময়। কোনও আর্ট কলেজের শংসাপত্র না থাকলেও নিজের সৃষ্টির জোরে চারুকলা ভবনে বেশ কিছুদিন প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছিলেন দেবরাজ। সেটাই অনেকাংশে বদলে দিয়েছে জীবনের মোড়। এখনও ভ্যান নিয়ে বেরোতে হয়। তবুও শিল্পীর তকমাটাও জুড়ে গিয়েছে নামের সঙ্গে। কলকাতাতে প্রদর্শনী করার সুযোগ পেয়েছেন দেবরাজ। তাঁর কথায়, “কলকাতায় প্রদর্শনী করার পরেই নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে একটি প্রদর্শনীতে ছবি পাঠানোর জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছিলেম আমি। ঢাকা শহরেও সম্প্রতি একটি প্রদর্শনীতে আমার ছবি স্থান পেয়েছে। এ বার জাপান থেকেও ডাক পেয়েছি। যতটুকু সময় পাচ্ছি সেই নিয়েই এখন ব্যস্ত আমি।”
শিল্পী মন, প্রতিষ্ঠার লড়াই সবই আছে পাশাপাশি। আর জীবিকার জন্য ভ্যান চালানোও। রঙ তুলির খরচ জোগাড় করতে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকার বহু ছাত্র ছাত্রীকে আঁকা শেখান তিনি। এ কাজে জড়িয়ে থাকে ভালবাসাও। “যারা শিখতে চায় তারা তো এগিয়ে আসুক। আমার পাশে এ ভাবে দাঁড়ানোর তো কেউ ছিল না।” বলেন দেবরাজ।
চিলতে ঘরে ক্যানভাসের মেলা। বর্ষা এলেই আতঙ্কে থাকেন। ফি বর্ষাতেই যে ফুটো চাল চুঁইয়ে পড়া জলে রঙ ধুয়ে যায়। প্রতিবার ভাবেন কিছু একটা ঠিক করে করে ফেলবেন। ছবিগুলোকে বাঁচাতে। কিন্তু সাধ্যে কুলোয় না কখনওই। তখনই স্বপ্নগুলো জোরদার হয় ফের। শুধুমাত্র চিত্রশিল্পী হয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন।