দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করার সময়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন প্রস্তাব রেখেছিলেন, এলআইসির যে শেয়ার সরকারের হাতে আছে, তার কিছুটা অংশ বাজারে বিক্রি করা হবে।
তারপর থেকেই বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলি ওই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। সোমবার সেই ক্ষোভই রাস্তায় নেমে এল। কলকাতার এলআইসি দফতরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করল এলআইসি এজেন্ট ও কর্মচারীদের সংগঠন। তাতে যোগ দিল যুব কংগ্রেস ও ছাত্র পরিষদও।
নরেন্দ্র মোদীর কুশপুতুল, প্ল্যাকার্ড নিয়ে বেলা সাড়ে বারোটা থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েকশো এজেন্ট ও কর্মচারী। তাঁদের কথায়, এই সরকার এক এক করে সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে কর্পোরেটের কাছে বেচে দিতে চাইছে। এজেন্ট সংগঠনের এক নেতার কথায়, ৪০ কোটি মানুষ এলআইসিকে ভরসা করেন। তাঁদের সেই ভরসাটুকু চলে গেলে সংস্থাটাই লাটে উঠে যাবে। তাঁর দাবি, বিমা করা রয়েছে এমন অনেক মানুষ ইতিমধ্যেই জানতে চাইছেন সময়ের আগে টাকা তুলে নেওয়ার পদ্ধতি কী আছে। অর্থাৎ ওই একটি প্রস্তাবই তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে দিয়েছে।
মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পরে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা বেসরকারিকরণের অভিযোগ উঠেছে। রেল, বিমানের মতো ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই বেসরকারিকরণ শুরু হয়েছে। এবারের বাজেটে রেলের ক্ষেত্রে এবং জেলা হাসপাতালের সঙ্গে মিলে মেডিক্যাল কলেজ চালু করার ক্ষেত্রেও পিপিপি মডেলের কথা ঘোষণা করেছেন নির্মলা সীতারমন।
বাজেটের পর এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। টুইট করে দিদি লিখেছিলেন, “আমি স্তম্ভিত! দেখুন কী ভাবে কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের দেশের গর্বের এবং ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠানগুলিকে কৌশলে আক্রমণ করছে।” সেই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কি একটা যুগের অবসান হতে চলেছে? টুটের নীচেই হ্যাশট্যাগ দিয়ে ভারতীয় রেল, এলআইসি, এয়ার ইন্ডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের নাম লেখেন তৃণমূল নেত্রী।
এবার একেবারে আন্দোলনের রাস্তায় নেমে পড়লেন এলআইসির এজেন্ট-কর্মীরা। তাঁদের দাবি, এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে হবে সরকারকে। নাহলে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা।