দুর্গাপুরের ব্যস্ত বাজারে পুলিশ সেজে ছিনতাই আড়াই লক্ষ টাকার গয়না
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক্কেবারে ফিল্মি কায়দায় কেপমারীর ঘটনা ঘটল দুর্গাপুরের (Durgapur) বেনাচিতি বাজারে। পুজোর আগে পুলিশের ছদ্মবেশে (disguised police) কাজ হাসিল করল গুন্ডারা। ঘটনায় প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার গয়না (gold ornaments) খুইয়ে এখন আতঙ্কে অবসর
শেষ আপডেট: 8 October 2021 01:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক্কেবারে ফিল্মি কায়দায় কেপমারীর ঘটনা ঘটল দুর্গাপুরের (Durgapur) বেনাচিতি বাজারে। পুজোর আগে পুলিশের ছদ্মবেশে (disguised police) কাজ হাসিল করল গুন্ডারা। ঘটনায় প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার গয়না (gold ornaments) খুইয়ে এখন আতঙ্কে অবসরপ্রাপ্ত ইস্পাত কর্মী তুষার সরকার। চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
বৃহস্পতিবার সকালে মোবাইল সারাতে বেনাচিতি বাজারে গিয়েছিলেন দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর গুরু নানকের বাসিন্দা তুষার সরকার। তিনি জানিয়েছেন, বেনাচিতি বাজারের ঘোষ মার্কেটের কাছে মোবাইলের দোকানে কর্মচারী না থাকায় ওই দোকানের ম্যানেজার তখন তুষারবাবুকে বাজারে অন্য কাজ সেরে আসতে বলেন। সেই মতো তুষার বাবু বাইরে বেরিয়ে অন্য কাজে যাচ্ছিলেন।
অভিযোগ, তখনই বছর তিরিশের লম্বাটে গড়নের এক যুবক রাস্তার ওপারে একজনকে দেখিয়ে বলে, 'স্যার আপনাকে ডাকছেন।' এর পরেই শুরু অ্যাকশন ফিল্মের নাট্যরূপ। নিজেদের পুলিশ কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে পুলিশ লেখা আইডেন্টি কার্ড দেখিয়ে শুরু হয় তুষার বাবুর তল্লাশি! এমনকি পুলিশ অফিসার পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি তুষার বাবুকে বকাবকি শুরু করেন, কেন সোনার চেন এবং আংটি পরে বাজারে এসেছেন তিনি।
এর পরেই সোনার চেন, হাতের আংটি খুলে ফেলার অনুরোধ করে সেগুলো তুষার বাবুর কাছ থেকে নিয়ে একটা সাদা কাগজে মুড়িয়ে, তুষার সরকারের ব্যাগে ঢুকিয়ে দিয়ে ব্যাগটি দড়ি দিয়ে বেঁধে দিয়ে বলেন তাড়াতাড়ি ঘরে ফিরে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তুষারবাবু তখনই ব্যাগ খুলে দেখেন এবং তাতে তখন কাগজে মুড়িয়ে রাখা সোনা-দানা নয়, ছিল কয়েকটি ছোট ছোট নুড়ি পাথর!
ভাল করে বুঝে ওঠার আগেই বাইকে চড়ে চম্পট দিয়ে দেয় ওই দুই ছদ্মবেশী পুলিশ! প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার জিনিস চলে গেছে বলে অবসরপ্রাপ্ত ইস্পাত কর্মী তুষার কান্তি সরকার জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার ১৫ মিনিটের মধ্যে স্থানীয় প্রান্তিকা ফাঁড়িতে পৌঁছন তিনি। অথচ পুলিশ চোর ধরার উদ্যোগ না নিয়ে তাঁকেই উল্টে বকাবকি শুরু করে দেয়!
পুলিশ জানিয়েছে, এখন দুর্গাপুর থানার অধীনে থাকা প্রান্তিকা ফাঁড়ির সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কিন্তু ভরা বাজারে দিনের আলোয় এই ধরনের ঘটনায় এখনও আতঙ্কিত এলাকার মানুষজন। পুজোর আগে এমনটা আরও হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পুলিশ।