দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের ভোটে পাহাড়ের তিনটে আসন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে ছেড়ে দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। পাহাড়ে ঢালাও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট মি হবেটে গেছে মাস দুয়েক হল। তৃণমূলের সাংসদ তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করলেন গোর্খা দলের নেতা রোশন গিরি।
সম্প্রতি রোশন গিরি এবং গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার আরও এক প্রতিনিধি ডঃ আর বি ভুজেলের সঙ্গে দেখা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের আইন মন্ত্রী মলয় ঘটক। তা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন টুইটে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, বিমল গুরুংয়ের দলই বঙ্গভঙ্গ করে পাহাড়কে বাংলা থেকে আলাদা করার মূল দাবিদার। তাঁর দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করেছেন শাসকদলের নেতৃত্ব। এর দ্বারা তৃণমূল যে পাহাড়ে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, সে কথাই প্রমাণিত হয় বলে মন্তব্য করেছেন দিলীপ।
বস্তুত, উত্তরবঙ্গের বিজেপি সাংসদ জন বার্লার মন্তব্যকে ঘিরে সম্প্রতি তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। উত্তরবঙ্গকে পৃথক রাজ্যে পরিণত করার দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। সেই সূত্রে বিজেপি যে বঙ্গভঙ্গে উস্কানি দিচ্ছে, তাও জোর গলায় প্রচার করেছিল তৃণমূল। শনিবার দিলীপ ঘোষ সেই অভিযোগের তির ঘুরিয়ে দিতে চাইলেন শাসকদলের দিকেই।
টুইটে গেরুয়া রাজ্য সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মলয় ঘটকদের সঙ্গে রোশন গিরিদের সাক্ষাতের ছবি পোস্ট করেছেন। সে ছবিতেই লেখা রয়েছে, বঙ্গভঙ্গ করে পাহাড়কে আলাদা করার মূল দাবিদার বিমল গুরুংয়ের দলের নেতা রোশন গিরির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন অভিষেক ব্যানার্জী ও মলয় ঘটক। উত্তরবঙ্গের মানুষ তৃণমূলকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে দিয়েছে। তাই এবার পাহাড়ে অরাজকতা সৃষ্টি করার জন্য বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের সাহায্য নিচ্ছে তৃণমূল। ছবির শিরোনামে দিলীপ বাবু লিখেছেন, 'বাংলা ভাগ এবং তৃণমূল কংগ্রেস'।
https://twitter.com/DilipGhoshBJP/status/1413711850336776194?s=20
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করার পর রোশন গিরিদের তরফে জানানো হয়েছে, পাহাড়ের সমস্যার চিরস্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। তা নিয়েই গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিনিধিরা সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও আইন মন্ত্রী মলয় ঘটকের সঙ্গে দেখা করেছেন। ২০২১ সালের নির্বাচনী ইস্তেহারেও এর উল্লেখ ছিল। গতবছর ১৫ ডিসেম্বর জলপাইগুড়িতে গিয়ে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী একথা বলেছিলেন। তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত ভোটের ফল প্রকাশের পর একাধিক বার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। সম্প্রতি তিনি জিটিএ নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথাও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ জিটিএ সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতি হয়েছে। এখন দেখার পাহাড় প্রদেশ নিয়ে বাংলার রাজনীতির জল কতদূর গড়ায়।