দ্য ওয়াল ব্যুরো: শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের। রবিবার বিকেলে সল্টলেক আমরি হাসপাতালের তরফে বুলেটিন প্রকাশ করে জানানো হয়েছে, এইচডিইউ থেকে জেনারেল বেডে দেওয়া হয়েছে মেদিনীপুরের সাংসদকে।
গত ১৬ অক্টোবর দুপুর বেলা বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কোভিড টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। রাতে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার পর্যন্ত তাঁর জ্বর ছিল। কিন্তু এদিন আর জ্বর আসেনি। তাছাড়া রক্ত চাপ এবং অন্যান্য রিপোর্টও সন্তোষজনক। সাধারণ খাওয়াদাওয়া করছেন দিলীপবাবু।
গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই শরীর ভাল যাচ্ছিল না বিজেপির রাজ্য সভাপতির। সমস্ত কর্মসূচি বাতিল করে নিউটাউনের ফ্ল্যাটেই ছিলেন তিনি। শেষপর্যন্ত একাধিক কোভিড উপসর্গ থাকায় তাঁর করোনা টেস্ট হয় এবং রিপোর্ট আসে পজিটিভ।
এর আগে গত জুলাই মাসে দিলীপ ঘোষের কয়েক জন নিরাপত্তারক্ষী, বাড়ির রান্নার লোক কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই সময়ে প্রায় ১৪ দিন তিনি এবং রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সুব্রত চট্টোপাধ্যায় হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। যদিও সেই সময়ে সংক্রমণ ছুঁতে পারেনি তাঁকে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাইরের কর্মসূচি বাড়িয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। জেলায় জেলায় পৌঁছে রোড শো, জনসভা করছিলেন। কর্মসূচিগুলিতে ভিড়ও হচ্ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতার কোভিড গেরুয়া শিবিরের আন্দরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে রাজ্য বিজেপির একাধিক নেতানেত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, মহিলা মোর্চার সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পল কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সর্বভারতীয় কমিটিতে জায়গা পাওয়ার তিন-চার দিনের মধ্যেই করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় অনুপম হাজরাকে। দু’দিন আগে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ও কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। এবার দিলীপ ঘোষ।
প্রসঙ্গত, করোনাকে কী ভাবে প্রতিহত করার জন্য মাঝেমাঝেই পরামর্শ দিতে শোনা যেত দিলীপবাবুকে। কী কী মিশিয়ে নাড়া বানিয়ে খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, দলীয় সভায় সেসবও বলতেন তিনি। শেষপর্যন্ত তাঁকেও ছুঁয়ে ফেলেছে করোনা। যদিও বিজেপির অনেকেই বলেন, দিলীপদা দ্রুত সেরে উঠবেন। কারণ ওঁর শারীরিক ক্ষমতা যথেষ্ট রয়েছে। নিয়মিত হাঁটেন, ব্যায়াম করেন। অনেক তরুণের চেয়ে ফিট দিলীপ ঘোষ।