দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনীতিকদের বিয়ে করা উচিত নয়, এমনটাই মনে করেন বিজেপির সদ্যপ্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ (dilip ghosh)। রবিবার দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এমনটাই খোলাখুলি জানালেন তিনি। দাবি করলেন, সংসার, পরিবার এসব সামলাতে অনেক বেশি সময় চলে যায়, তাই বহু রাজনীতিকই বিয়ে করেননি। তিনিও এই কারণেই বিয়ে করেননি।
এই নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, "বেশিরভাগ রাজনীতিবিদই অবিবাহিত। পারিবারিক ব্যক্তির দায়িত্ব আছে স্ত্রী, সংসার, সন্তান নিয়ে। সামাজিক কর্তব্য অনেক বেশি তাঁদের। অর্ধেক সময় তো সেখানেই চলে যাবে। আমি ৮ ঘণ্টার জায়গায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করলে সাফল্য তো বেশি আসবেই। বেশি কাজ করতে পারব।"
দলকে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছি, বলছেন দিলীপ ঘোষ
তাহলে জ্যোতি বসু যে একজন বিবাহিত মানুষ হয়েও অত বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন, তা কী করে সম্ভব হল! এই প্রসঙ্গ তুললে দিলীপবাবু বলেন, "জ্যোতিবাবু একজন আলাদা লোক। তিনি সংগঠন করেননি। এলিট টাইপের লোক ছিলেন। সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ও তাই। তাঁরা এসেছেন, পার্টি তাঁদের দলের মুখ করে বসিয়ে দিয়েছে। সিদ্ধার্থ বাবু ব্যারিস্টার ছিলেন, তিনি কি পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে সংগঠন করেছেন!"
https://youtu.be/h6WTSYbWZYY
যিনি সমাজের জন্য কাজ করতে চান, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু থাকে না, এমনটাই মনে করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি এই প্রসঙ্গে মহাত্মা গান্ধীর উদাহরণ দিয়ে বলেন, "গান্ধীজির জীবনেও অনেক গন্ডগোল হয়েছে। তিনি তো অত বড় ব্যক্তি ছিলেন। বিয়ে করলেই সমস্যা হবে। ছেলেমেয়ে বিগড়ে যাবে, পরিবারের জন্য সময় থাকবে না। তখন প্রশ্ন উঠবে, তুমি তো দেশের জন্য এত করলে। পরিবারের জন্য কী করলে।"
দিলীপ ঘোষের সাফ কথা, সময় বেশি মানে বেশি কাজ। আর অবিবাহিত থাকা মানে বেশি সময়। বিয়ে না করলে কোনও সাংসারিক দায়িত্ব পালন করতে হয় না, অশান্তিরও ব্যাপার নেই। এককথায় বলতে গেলে, ঝাড়া হাত-পায়ে অনেকটা বেশি সময় রাজনীতি করতে গেলে বিয়ে করা উচিত নয় বলেই মনে করেন দিলীপ ঘোষ।