
শেষ আপডেট: 13 December 2022 15:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিসেম্বর ডেটলাইনের হুমকি দিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যে জল্পনা তৈরি করেছিলেন, তা ইতিমধ্যে বিজেপির দেওয়ালেই ধাক্কা খেতে শুরু করেছে। বরং এখন দেখা যাচ্ছে, গেরুয়া শিবিরেই গৃহদাহ শুরু হয়ে গিয়েছে।
মঙ্গলবার হাজরার সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নাম না করে দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) উদ্দেশে খোঁচা দিয়েছিলেন। শুভেন্দু বলেছিলেন, ‘আমি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আমি গিমিকে বিশ্বাস করি না। আমি মর্নিংওয়াক করতে গিয়ে মিডিয়ায় স্টেটমেন্টও করি না। যা বলি ভেবে বলি।’
শুভেন্দুর ওই মন্তব্যের পর বিজেপির মধ্যে অস্থির ভাব লক্ষ্য করা যায়। রাতেই দিলীপ অনুগামীরা শুভেন্দু নাম না করে বলতে শুরু করেন, যে তিনটি তারিখের কথা বলা হচ্ছে (পড়ুন ডিসেম্বরের যে তিন তারিখের কথা বলে বাংলায় তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন শুভেন্দু), তা হল আদালতে শুনানির তারিখ। আদালতের বিষয় আদালতে মীমাংসা হবে। তাতে বিজেপির কী!
তারপর এবার ফোঁস করলেন দিলীপও। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতিও অবশ্য শুভেন্দুর নাম মুখে আনেননি। তিনি বলেন, ‘কে কোথায় কী বলছেন, কী যায় আসে! মর্নিংওয়াক (morning walk) করতেও দম লাগে’।
দিলীপ ঘোষ মর্নিংওয়াকের জন্য বাংলার রাজনীতিতে পরিচিত। রোজ সকালে ইকো পার্কে হাঁটাহাঁটি করার পর তিনি সংবাদমাধ্যমের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। সকালে খবর কম থাকলে সেগুলি অধিকাংশ টিভি চ্যানেলের সকালের স্লট ভরাট করতে সাহায্য করে। তবে এটা ঠিক মর্নিংওয়াক নিয়ে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও দিলীপের প্রশংসা করেন। এমনকি একবার রাজভবনে আলাপচারিতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এইজন্য দিলীপের প্রশংসা করেন।
তবে সেই মর্নিংওয়াক নিয়ে ঘরে অশান্তি হবে কে জানত! শুভেন্দুর এক ঘনিষ্ঠ নেতার দাবি, প্রথমে বিষয়টা খুঁচিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষই। দিল্লিতে সোমবার সকালে কোনও সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন, আজ ১২ ডিসেম্বর। আজ কি বাংলায় বড় কিছু হবে? জবাবে দিলীপবাবু বলেছিলেন, ১২ ডিসেম্বর ইতিহাসে কিছু হয়েছিল কিনা জানি না। বাংলাতেও কিছু হবে বলে মনে করিনা। প্রসঙ্গত, শুভেন্দু যে তিন তারিখের কথা বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তার মধ্যে ১২ ডিসেম্বর তারিখটাও ছিল।
দিলীপ শিবিরের বক্তব্য, শুভেন্দুরা যেভাবে শুধু আদালত ও ইডি-সিবিআই নির্ভর রাজনীতি করতে চাইছে তা বিজেপির জন্য ভাল হচ্ছে না। রাজ্য বিজেপিকে মাঠে বা লড়াইতে দেখা যাচ্ছে না। যেন মনে হচ্ছে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির ঘাড়ে চেপে সরকারে আসবে বিজেপি।
সবমিলিয়ে পরিস্থিতি এখন এমন যে ডিসেম্বর ডেটলাইন কিছুটা ব্যুমেরাং হয়ে গেছে। অনেকের মতে তা ডিসেম্বর গৃহদাহর আকার নিয়েছে। তা আবার প্রশমিত করার চেষ্টায় নেমেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি এদিন দিল্লিতে দাবি করেছেন, শুভেন্দু দিলীপ ঘোষকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলেননি।
এদিকে জানা গিয়েছে, ১৯ ডিসেম্বর দিল্লিতে বাংলা বিজেপি সমন্বয় বৈঠক ডাকা হয়েছে। সাংসদ সুভাষ সরকারের বাসভবনে হবে ওই বৈঠক। শুভেন্দু অধিকারীরও ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা। এখন দেখার সেখানে আলোচনার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়।