
শেষ আপডেট: 23 June 2018 10:27
রফিকুল জামাদার: কথায় বলে সমুদ্র কিছু নেয় না। সব ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু এ কথা একেবারেই সত্যি নয় দিঘায়। শুধু দিঘা কেন, মন্দারমনি, তাজপুর, উদয়পুর সর্বত্রই সমুদ্র শরীর ফিরিয়ে দিলেও কেড়ে নিয়েছে প্রাণ। চলতি জুন মাসেই দিঘার সমুদ্রে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছে চার পর্যটকের। এ বার সৈকতে মৃত্যু ঠেকাতে লক্ষণ রেখা টানার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার।
হলদিয়া-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের পক্ষ থেকে খরচ করা হচ্ছে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। ওল্ড দিঘা, নিউ দিঘা, মন্দারমনি সহ সবকটি সৈকতে বেলুন ভাসাবে ডিএসডিএ। হলুদ রঙের বিশালাকার সেই বেলুনে লেখা থাকবে সতর্কবার্তা। পর্যটকরা স্নানে নেমে ওই সীমা অতিক্রম করতে পারবেন না। পেরোলেই গ্রেফতার করা হবে। মৃত্যু ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে পুলিশ ও প্রশাসন।
দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান শিশির অধিকারী। গত কয়েক বছরে ঢেলে সাজানো হয়েছে সমুদ্র শহরকে। বিশ্ববাংলা পার্ক থেকে সৈকত সংস্কার সবই হয়েছে। কিন্তু মৃত্যু ঠেকানো যায়নি। এ বার সেদিকেই নজর দিচ্ছে প্রশাসন।
মূলত সমুদ্রে কেউ তলিয়ে গেলেই প্রাথমিকভাবে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জলে নামার তত্ত্ব উঠে আসে। কিন্তু সমুদ্র বিজ্ঞানী থেকে স্থানীয় মানুষ বলছেন পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের ঢেউয়েও পরিবর্তন হয়েছে। হঠাৎ আসা ঢেউ টেনে নিয়ে গিয়েছে অনেক দূরে বসে থাকা পর্যটককে। সম্প্রতি এমনও ঘটনা ঘটেছে, ওল্ড দিঘার পারে বোল্ডারে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলার সময় ভেসে গিয়েছেন এক পর্যটক। স্থানীয়রা বলছেন নিউ দিঘার তুলনায় এই আচমকা ঢেউ আসার ঘটনা ওল্ড দিঘায় অনেক বেশি। সব ক্ষেত্রে নেশা করে জলে নামার কথা ঠিক নয়। বাঙালি মধ্যবিত্তের উইকেন্ডের ডেস্টিনেশনকে আরও নিরাপদ করতেই এই পদক্ষেপ বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।