
শেষ আপডেট: 25 January 2023 02:00
তখন অবিরাম বৃষ্টি পড়ছে ধর্মতলায়। একুশে জুলাই কমবেশি এমনই হয়। সেই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) সেদিনই পঞ্চায়েত ভোটের (Panchayet Election) মোদ্দা কথাটা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন দলকে। তা হল, কোনও নেতা ধরে বা কারও বোতল কিংবা ছাতা বয়ে পঞ্চায়েতের টিকিট পাওয়া যাবে না। মানুষ যাঁদের চান না, তাঁদের প্রার্থী করবে না দল।
কথার পিঠেই কথা হয়। অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন, মানুষ মানে কী? দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কি গ্রামে গ্রামে যাবেন ? গিয়ে জিজ্ঞেস করবেন, কে কাকে পছন্দ করেন?
‘দিদির দূত’-দের (Didir Doot) গ্রামে পাঠিয়ে সম্ভবত সেই প্রশ্নের জবাবই দিয়েছে তৃণমূল। এ নিয়ে সন্দেহ নেই যে দিদির দূত বা দিদির সুরক্ষা কবচ—এই দুই অভিষেকের ভাবনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় ছোটরাই নাম ঠিক করেছে। আসল বিষয় হল, মানুষের দরজায় যাবে তৃণমূল (TMC)।
কালীঘাটের ঘনিষ্ঠ সূত্রে বলা হচ্ছে, দিদির দূতের উদ্দেশ্য স্পষ্ট এবং এই কর্মসূচি বহুমুখী। অভিষেক বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও পরিষ্কার যে দলের একাংশের নেতা-কর্মীর আচরণে সাধারণ মানুষ খুশি নয়। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, পঞ্চায়েত ভোটের আগে মানুষের ক্ষোভের কথা শুনতে অন্যদের সঙ্গে তাঁদেরও পাঠাচ্ছেন অভিষেক-মমতা। অর্থাৎ কারও বিরুদ্ধে রাগ, ক্ষোভ বা অভিমান থাকলে প্রথম ধাক্কাটা তাঁদেরই সামলাতে হবে।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের মতে, এতে দু’রকম কাজ হতে পারে। এক, মানুষ তাদের ক্ষোভের কথা একবার জানিয়ে দিতে পারলে তা আর ব্যালট বাক্স পর্যন্ত হয়তো যাবে না। অর্থাৎ তা সেফটি ভালভের কাজ করতে পারে। কারণ, ক্ষোভের কথা কাউকে জানাতে পারলে ভারমুক্ত মনে হয়। দুই, দলও সাদাকালোয় দেখতে পাবে ঠিক কাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বা রাগ রয়েছে। সুতরাং পঞ্চায়েত ভোটে টিকিট দেওয়ার আগে তা বিবেচনা করে দেখার সুযোগ পাবে দল। এবং তার মাধ্যমে স্থানীয় স্তরে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাও মোকাবিলার সুযোগ পাবে। মানে, প্রার্থী বাছাইয়ের আগে ছাঁকনির কাজটাই করবে দিদির দূত।
সূত্রের খবর, শেষ পর্যন্ত যদি কৌশলের কোনও বদল না হয় তা হলে দিদির দূত কর্মসূচিই বৃহত্তর সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিতে পারে। দিদির দূতদের থেকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট নিয়ে তৈরি হতে পারে পঞ্চায়েত ভোটের প্রার্থী তালিকা। মালা রায় হয়তো রিপোর্ট দেবেন, বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটির ওমুক গ্রামের প্রধানের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। কিংবা কাকলি ঘোষ দস্তিদার হয়তো দলকে জানাবেন, বনগাঁর তসুক গ্রামের প্রধানকে মনুষ খুব ভালবাসে। তারপর তৈরি হবে তালিকা।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় তৃণমূল ভোটে কতটা সুফল পাবে তা সময় বলবে। কারণ, এ ক্ষেত্রেও অনেকগুলো ফ্যাক্টর কাজ করতে পারে। এর আগে নাম কে ওয়াস্তে তৃণমূলের সংগঠন ছিল ঠিকই, কিন্তু তা অনেকটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরাগী বাহিনীর মতো ছিল। আকছার দেখা যেত, জেলা সভাপতির কথা ব্লক সভাপতি শুনছেন না। কিন্তু অভিষেক এবার সংগঠনকে একটা নতুন চেহারা দিতে চাইছেন। দায়বদ্ধতাও সুনিশ্চিত করতে চাইছেন। কিন্তু মুশকিল হল, এই তাঁর এই চাওয়া অচলায়তনে ধাক্কা মারছে। দলের প্রবীণদের অনেকেই নতুন ব্যবস্থা পছন্দ করছেন না। সুতরাং এও দেখার যে প্রার্থী বদল করতে চাইলে তার অভিঘাতই বা দলের মধ্যে কেমন হয়।
সিপিএমের হলটা কী! দু'ঘণ্টায় জোড়া সাংবাদিক বৈঠক বাতিল, ত্রিপুরায় তুঙ্গে জল্পনা