
শেষ আপডেট: 3 September 2023 11:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ধূপগুড়ি উপনির্বাচন (Dhupguri By Election)। মাত্র দুদিন আগেই ঘাসফুলের ছেড়ে পদ্মশিবিরে যোগ দিলেন প্রাক্তন বিধায়ক মিতালি রায় (Mitali Roy)। রবিবার সকালে বিজেপি রাজ্য সভাপতির হাত থেকে পতাকা তুলে নেন মিতালিদেবী।
অভিষেকের সভার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার পর মিতালি রায়ের অভিযোগ, গত বিধানসভা ভোটের পরে তৃণমূলের কোনও শীর্ষ নেতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।
এক সময় কেএলও নেত্রী ছিলেন মিতালি। পরে মুকুল রায়ের হাত ধরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে ধূপগুড়ি কেন্দ্রের তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন মিতালি রায়। ওই নির্বাচনে তিনি জয়ী হন। ২০২১ বিধানসভা ভোটে ফের তাঁকে প্রার্থী করে তৃণমূল। কিন্তু বিজেপি প্রার্থী বিষ্ণুপদ রায়ের কাছে তিনি হেরে যান।
কিন্তু বিষ্ণুপদ রায়ে মৃত্যুর পর ধূপগুড়ির উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার সেই উপনির্বাচন। এবার মিতালি রায়কে লড়াইয়ের ময়দানে না নামিয়ে নতুন মুখ নির্মলচন্দ্র রায়কে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।
ধূপগুড়ির রাজনৈতিকমহলের দাবি, দলের টিকিট না পাওয়ায় তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছিল মিতালিদেবীর। তাই অভিষেকের সভার পরেই দল ছেড়ে পদ্মশিবিরে গেলেন তিনি।
মিতালিদেবীর ক্ষোভের কথা আন্দাজ করতে পেরে প্রচারে এসে তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাস তাঁর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেছিলেন। কিন্তু তাতেও বরফ গলল না।
মিতালি দেবী বলেন, 'আমি এবার দলের হয়ে প্রচারে নামতে চাইনি। আলাদাই থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যেভাবে কাল চাপ তৈরি করে আমাকে প্রচারের ময়দানে নামানো হয়ছিল। তাতে মন ভেঙে গেছে। তাই রাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
এদিন মিতালি রায়ে হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে বিজেপি রাজ্য সম্পাদক সুকান্ত মজুমদার জানান, 'মাস্টার স্ট্রোক না সুপার মাস্টার স্ট্রোক সেটা আপনারা বলবেন। কিন্তু মিতালিদেবী বিজেপিতে আসায় বিজেপির পুরো পরিবার আনন্দিত। কারণ শ্রীমতি মিতালি রায় উত্তরবঙ্গে পরিচিত মুখ। যাঁরা রাজবংশীদের সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন তাঁদের মধ্যে মিতালি অন্যতম। তিনি তৃণমূলে থাকতে পারছিলেন না। তাই মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে মোদীজির কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন।'
সুকান্তবাবুর এই মন্তব্য চুপ থাকেনি তৃণমূল। তৃণমূলের জেলা কমিটির সদস্য রাজেশ সিংহ জানিয়েছেন, 'মাস্টার স্ট্রোক না সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, সেটা বিজেপি বুঝবে। ওয়েট অ্যান্ড সি। আগে নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থামান। এই ঘটনা নিয়ে আমরা বলতে চাই, যে মানুষ মিতালিদেবীর উপর বিশ্বাস হারিয়েছে। কারণ যিনি আগের দিন তৃণমূলের হয়ে ভোট চেয়েছেন, তিনি সকালে বিজেপিতে যোগ দিতে পারলেন কী করে?'
আরও পড়ুন: সনিয়া ফের অসুস্থ, ভর্তি হাসপাতালে, কী বলছেন চিকিৎসকরা