সব পার্টি অফিসে করোনা চিকিৎসা কেন্দ্র হোক, চান তৃণমূল সাংসদ দেব
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে 'আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখাও।' সেটাই করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা অভিনেতা দেব। ঘাটালের সাংসদ সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় তাঁর অফিসকে আইসোলেশন ক্যাম্প বানিয়েছেন। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছেন। আর সে
শেষ আপডেট: 30 August 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে 'আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখাও।' সেটাই করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা অভিনেতা দেব। ঘাটালের সাংসদ সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় তাঁর অফিসকে আইসোলেশন ক্যাম্প বানিয়েছেন। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছেন। আর সেই সঙ্গেই সাংসদ দীপক অধিকারির বার্তা, সব রজানৈতিক দলের সব পার্টি অফিসই এখন মানুষের কাজের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন
না, এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও সাংসদকে এমনটা করতে দেখা যায়নি। রাজ্যে তিনিই প্রথম সাংসদ যিনি নিজের অফিসকে করোনা চিকিৎসায় ব্যবহার করার জন্য দিলেন। সে খবর জানানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি সব রাজনৈতিক দলকে এই পথে হাঁটার পরামর্শ দিলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, এই বার্তা তাঁর নিজের দলের জন্যও।
https://twitter.com/idevadhikari/status/1300332003158421504
ঘাটালের সাংসদ অবশ্য এই প্রথম নয়, করোনা কালে ব্যক্তি উদ্যোগে এর আগেও অনেক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিজেই জানিয়েছেন। সেটা তাঁর টুইটার হ্যান্ডেল দেখলেই স্পষ্ট হয়। তাঁর কাছে যাঁরা সাহায্য চেয়েছেন তাঁদের পাশে তো দাঁড়িয়েছেনই সেই সঙ্গে নিজের উদ্যোগে এগিয়েছেন অনেক ক্ষেত্রেই। কয়েকদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়া সূত্রে এক অসহায় বৃদ্ধার কথা জানতে পেরে তাঁকে সাহায্য করার জন্য নিজের থেকে ফোন নম্বরের খোঁজ করেন। কেউ কেউ তাঁর কাছে ওষুধের জন্য আবেদন করায় তিনি তার ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন।
তবে কটাক্ষ করার লোকের অভাব নেই। তাঁদের অনেকেই বলতে শুরু করেছেন অভিনেতা দেব, বাংলার সোনু সুদ হতে চাইছেন। উল্লেখ্য, বলিউড অভিনেতা সোনু করোনা পরিস্থিতিতে ভিন রাজ্যে আটকে পরা পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানো থেকে নিরন্নের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া, অনেক কাজই করেছেন এবং করে চলেছেন। সেই সোনু সুদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই তুলনা শুরু হয়েছে তৃণমূল সাংসদ অভিনেতা দেবের।
উল্লেখ্য, সোনু সুদের মতো না হলেও অনেকের কাছেই তিনি 'দেব' রূপে দেখা দিয়েছেন গত কয়েক মাসে। নেপাল ও জম্মুতে লকডাউনে আটকে পড়া অনেক শ্রমিককে রাজ্যে ফেরানোর উদ্যোগ নেন তিনি। পরিযায়ী শ্রমিকদের অবস্থা নিয়ে টুইটেও সরব হয়েছিলেন। দাবি করেছিলেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের জীবন নিয়ে অনেকেই ভাবিত নন। এও বলেছিলেন যে, দেশ কিংবা রাজ্যে মাটির কাছাকাছি থাকা মানুষদের শ্রম ছাড়া সভ্যতা অচল। এর পরেই প্রথমে নেপাল ও পরে জম্মু থেকে শ্রমিকদের বাংলায় ফেরান দেব।
ঘাটালের বহু মানুষ স্বর্ণকারের কাজ করার জন্য দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এমনকি বাইরের দেশেও কাজ করতে যান। জম্মুতেও আটকে ছিলেন এইরকমই ৩৯ জন শ্রমিক। তাঁরা নিজেদের উদ্যোগে বাস ভাড়া করে বাংলায় ফিরতে চাইলেও আটকে দেওয়া হয়। এই আটকে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের খবর পেয়ে, শীঘ্রই তাঁদের জন্য ব্যবস্থা নেন দেব। শ্রমিকদের কাছে পর্যাপ্ত টাকা, খাদ্য, এমনকি পানীয় জলটুকু ছিল না। দেব নিজের উদ্যোগেই বাচ্চাদের জন্য দুধ ও পানীয় জল পাঠিয়ে দেন। বড়দের খাবারেরও ব্যবস্থা করেন।
এদিন তাঁর ডেবরার অফিসকে আইসোলেশন ক্যাম্প বানানো হলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না দেব। কারণ, গত ২৫ অগস্ট থেকে তিনি হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। সেদিন দেব নিজেই টুইট করে জানান, তাঁর বাড়ির ম্যানেজার উত্তম তাঁদের পরিবারের সদস্য হিসেবেই থাকেন। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। উত্তমের রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরে অভিনেতার বাড়িতেই তাঁকে আইসোলেট করে রাখার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দেব ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।