দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি বা সরকারি নির্দেশিকা কোন কিছুতেই লাগাম পড়ছে না আলুর দামে। রোজই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। শুধু আলুই নয়, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কাঁচাসবজি, আদা, রসুন,পেঁয়াজের দামও। হাত পুড়ছে সাধারণ গৃহস্থের।
লক-ডাউনের কিছুদিনের মধ্যেই ভেলকি দেখিয়েছে আলু। কয়েকমাস আগেই যে আলুর দাম ছিল ২০ টাকা কেজি, তা প্রায় দেড় গুণ দাম বাড়িয়ে নিয়েছে। এখন খুচরো বাজারে কোথাও ৩২ টাকা কোথাও ৩৪ টাকা কিলো দরে আলু বিক্রি হচ্ছে।মওকা বুঝে কোথাও আবার ৩৫ টাকাও দাম নেওয়া হচ্ছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অন্যান্য সব্জির দামও। মাথায় হাত পড়েছে সাধারণ মানুষের।
আলু সহ অন্যান্য সবজির দাম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকার ইতিমধ্যেই একাধিক ঘোষণা করেছেন। কিন্তু বাজারে তার কোনো প্রভাব নেই। গত ২৮এ অগস্ট রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলু ব্যবসায়ী সমিতির বৈঠকে ২২টাকা কেজি দরে পাইকারি আলু বিক্রি করার প্রস্তাব দেয় রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের তরফে কোল্ড স্টোরেজে বেঁধে দেওয়া ওই দামে আলু বিক্রি সম্ভব নয়, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তা স্পষ্ট জানিয়ে দিল আলু ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা।
আগামীদিনে আলুর দর কি হবে তা নিয়ে ২রা সেপ্টেম্বর বাঁকুড়ার জয়পুরের একটি বেসরকারি রিসর্টে বৈঠকে বসে আলু ব্যবসায়ী সমিতির রাজ্য নেতৃত্ব। বৈঠক শেষে সমিতির তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় রাজ্য সরকারের বেঁধে দেওয়া দরে তাঁরা কোনওভাবেই আলু বিক্রি করতে পারবেন না। এই বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ী সমিতি। সমিতির তরফে জানানো হয় এখন কোল্ড স্টোরেজে যে আলু মজুত আছে তার বেশিরভাগ অংশই চাষির। চাষি সেই আলু ব্যবসায়ীদের বিক্রি করছেন ২৬ টাকা কিলো দরে। এই পরিস্থিতিতে ইচ্ছে থাকলেও ব্যবসায়ীরা কিলো প্রতি ২২ টাকা দরে আলু বিক্রি করতে পারবেন না।
এদিনের বৈঠক শেষে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকারকে বিকল্প প্রস্তাব দেয় আলু ব্যবসায়ী সমিতি। সমিতির দাবি এই মুহূর্তে আলুর বাজার মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা আলু বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করুক রাজ্যসরকার। রাজ্যের বিভিন্ন কোল্ড স্টোরেজে সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা ১০ শতাংশ আলু মজুত রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য সেই সংরক্ষিত সরকারি আলু বাজারে নিয়ে আসার প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে বাজারে আলুর দাম কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী সমিতির কর্ণধারেরা।
চলতি বছরে লকডাউন পরিস্থিতিতে কিছু মানুষ অবিবেচকের মত কেজি কেজি আলু কিনে সঞ্চয় করেছেন। কিন্তু তাতেও এত দাম বাড়ার কথা নয়। কারণ পাইকারি বা খুচরো বাজার, জোগানে ঘাটতি নেই কোথাও। ব্যবসায়ীদের কথায় অনান্য সব্জির দাম বাড়ার কারণে আলুর চাহিদা বেড়েছে। তার সঙ্গে তাল মিলিয়েই বেড়েছে আলুর দাম। পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতে আলুর দাম আর চাহিদা বেশি থাকায় এই রাজ্যেও আলুর চাহিদা বেড়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছরে আলুর সংরক্ষণও কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মহার্ঘ আলুর পাশাপাশি সবজির দামও এখন সাধারণের নাগালের বাইরে।বাজারে কমবেশি সব সব্জিই অগ্নিমূল্য। কিন্তু সবাইকে টেক্কা দিয়েছে কাঁচালঙ্কা।খুচরো বাজারে কাঁচা লঙ্কা বিক্রি হচ্ছে কোথাও ২০০ টাকা তো আবার কোথাও ২৫০টাকা কেজি দরে। কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। যা যার মত দাম হাঁকছে।আমজনতাও বাধ্য হচ্ছে বাড়তি দাম দিয়ে জিনিস কিনতে। সব মিলিয়ে নাভিশ্বাস উঠেছে গৃহস্থের।
বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে ন্যূনতম নজরদারি নেই প্রশাসনের। ব্যবসায়ীসমিতি আর রাজ্যসরকারের মধ্যে দর নির্ধারণ নিয়ে দড়ি টানাটানির মধ্যেই তাই বাজার চলছে রাজার মতো। অথচ এবছর পূর্ব বর্ধমান সহ গোটা রাজ্যেই আলুর উৎপাদন ভালো হয়েছিল। যথেষ্ট পরিমাণে আলু মজুত রয়েছে হিমঘরগুলোতেও। তবু বাজারে আলুর হাহাকার। সাধারণ ক্রেতাদের মতে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ঠুঁটো জগন্নাথ প্রশাসন, দেখেও দেখছে না কিছু। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাই সার। আলুসহ কোনো সব্জিরই দাম কমার আশা দেখছেন না সাধারণ মানুষ।