দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেসের বৃত্তের বাইরে তাঁর তখন খুব একটা পরিচিতি নেই। কিন্তু তাঁর লড়াই করার মানসিকতা, অকুতোভয় রাজনীতি দেখে প্রিয়, প্রণব, গনি’র মতো কংগ্রেসের তাবড় নেতারা বলতেন, ‘এ মেয়ে অনেক দূর যাবে।’
৭৭-এ সিদ্ধার্থ জমানার অবসানের পর রাজ্যে তখন বাম জমানার ভরা জোয়ার। এর মধ্যেই ৮২-এর বিধানসভা নির্বাচনে আরও শক্তি বাড়িয়েছে সিপিএম-এর নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট। রাজ্যের কয়েকটি পকেট বাদে কংগ্রেস তখন নিভন্ত প্রদীপ। সময় গড়াল ‘৮৪ সালের দিকে। উপস্থিত হলো লোকসভা নির্বাচন। যাদবপুরে প্রার্থী পাচ্ছে না কংগ্রেস। সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে ডেকে প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন কে হবে যাদবপুরে প্রার্থী? সুব্রত উত্তরে প্রণবকে বলেছিলেন, ‘আমার কাছে একজন প্রার্থী আছে। করবেন? ও কিন্তু লড়ে যাবে।’ প্রণববাবু নাম জিজ্ঞাসা করায় সুব্রত উত্তর দিয়েছিলেন ‘ওঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ গোটা রাজনৈতিক মহল চমকে গিয়েছিল। অনেক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছিলেন, কংগ্রেসের কি জেতার ইচ্ছে নেই? যাদবপুরে সিপিএম-এর প্রার্থী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। আর এরকম একজন হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের প্রার্থী কিনা আনকোরা যুবনেত্রী! ভ্রু কুঁচকেছিলে অনেকেই। কিন্তু সবাইকে অবাক করে নিজের প্রথম নির্বাচনে সংসদীয় রাজনীতিতে প্রাজ্ঞ সোমনাথকে পর্যুদস্ত করে যাদবপুরে জিতেছিলেন মমতা।
প্রথম সাংসদ থাকার সময় মমতার একটি বিরল ছবি মঙ্গলবার টুইট করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে মমতা, অসংগঠিত ক্ষেত্রের মহিলাদের ট্রেনিং দিচ্ছেন একটি কর্মশালায়। ইন্ডিয়ান লেবার অর্গানাইজেশন আয়োজিত ওই কর্মশালা ছিল রাষ্ট্রপুঞ্জ অনুমোদিত।
ছবিটা হয়তো দুষ্প্রাপ্য। আজকের কন্যাশ্রী রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বীকৃতি পেয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি কোণে স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে তুলতে বিশেষ নজর দিয়েছেন মমতা। ডেরেকের টুইট দেখে অনেকেই বলছেন, পিছিয়ে পড়া মহিলাদের সামনের সারিতে আনতে প্রথম সাংসদ আর মুখ্যমন্ত্রী মমতার মধ্যে কোনও ফারাক নেই।
https://twitter.com/derekobrienmp/status/1014013431026835457