
শেষ আপডেট: 16 September 2023 03:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধু এই বছর বলে নয়। প্রত্যেক বছরেই বর্ষা এলে ডেঙ্গি-আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেন মানুষজন। ফি বছর বেশ কিছু তাজা প্রাণ বলি নেয় মশাবাহিত এই রোগ (Dengue death)। শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যজুড়েই ডেঙ্গিতে মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। মৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে অল্পবয়সি তরুণ-তরুণীর সংখ্যা। সেই ট্রেন্ড দেখে রীতিমতো উদ্বেগে চিকিৎসকরাও।
শুক্রবার সকালে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছিল ২৮ বছর বয়সি দেবদ্যুতি চট্টোপাধ্যায়ের (Kolkata doctor's death)। নিজেও চিকিৎসক দেবদ্যুতি ডেঙ্গিতে আক্রান্ত ছিলেন। দক্ষিণ কলকাতার গরফার বাসিন্দা ওই তরুণ চিকিৎসকের কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছিল কিছুদিন আগে। গুরুতর সুগারের সমস্যাও ছিল। ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় দেবদ্যুতিকে। কিন্তু মাল্টি অর্গান ফেলিওরের কারণে শুক্রবার মৃত্যু হয় তাঁর।
একই দিনে অর্থাৎ শুক্রবার দুপুরে মেদিনীপুর শহরের ভুঁইয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সি এক যুবকের মৃত্যু হল ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে। সূত্রের খবর, জ্বর হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে কোয়াক ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছিলেন ওই যুবকের পরিবার। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর শহরের রবীন্দ্রনগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। একদিন পর, শুক্রবার দুপুরে মৃত্যু হয় তাঁর।
শুক্রবার শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৪৪ জন। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে ২৮ জন, ঘাটাল হাসপাতালে ৮ জন, খড়গপুর হাসপাতালে ৪ জন, ডেবরা হাসপাতালে ৩ জন, শালবনী হাসপাতালে ১ জন ভর্তি রয়েছেন। ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ৩ জন ভর্তি রয়েছেন বলে খবর।
২৭ বছরের ওই যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেই ওই বেসরকারি হাসপাতালে তদন্তে যান জেলা স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা। তাঁদের সঙ্গে সন্ধ্যায় বৈঠক করেন জেলাশাসক। উপস্থিত ছিলেন মেদিনীপুর পুরসভার পুরপ্রধান সহ অনান্য আধিকারিকরাও।
মৃতের বাড়ির লোকের অভিযোগ পুরসভার বিরুদ্ধে। তাঁদের অভিযোগ, শহরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও পুরসভার হুঁশ নেই। মশা এবং মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণের কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই সমস্যা বাড়ছে।
যদিও পুরপ্রধান সৌমেন খানের বক্তব্য, 'সমস্ত রকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতর ও পুরসভা একসঙ্গে কাজ করছে। পুরসভা এলাকায় এটা দ্বিতীয় মৃত্যু। দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। যাতে এরকম মৃত্যু আর না হয় সেটাই দেখার।'
শান্তিতে পরলোকে পাঠানোর আয়োজন চলছিল, এদিকে ভিন রাজ্যে দিব্যি সংসার ‘মৃত’ ছেলের